প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে: জামায়াত

  দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।  তিনি বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় ও হতাশা তৈরি হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতি ভঙ্গ হলে দায় এড়াতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের– যারা একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন– আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা ইতোমধ্যে করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ডা. তাহের অভিযোগ করেন, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সর...

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হচ্ছে ৭ মুসলিম দেশ

 




আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিচ্ছেন জো বাইডেন। শপথের প্রথম দিনই যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে পারেন তিনি। খবর সিএনএন’র। 


বাইডেনের মনোনীত হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ রন ক্লেইনের এক নথি থেকে জানা গেছে, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনই বাইডেন বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশ জারি করতে পারেন। এর মধ্যে মুসলিম দেশগুলোর ওপর আরোপ করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংশ্লিষ্ট আদেশ থাকতে পারে। এছাড়া প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেরা, করোনা ভাইরাস মহামারির সময় শিক্ষার্থীদের বিতাড়ন ও ঋণ স্থগিত সংক্রান্ত ট্রাম্পের আদেশ বাতিল, অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো থাকতে পারে। 


এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের সন্তানদের সঙ্গে মা–বাবার পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করতেও পদক্ষেপ নিবে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।


ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে ২০১৭ সালে ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন পরই সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সেই দেশগুলো হলো- ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সুদান, ইয়েমেন ও সোমালিয়া।


এদিকে, বাইডেনের অভিষেকের দিনে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। ফলে ৫০টি রাজ্যের সবগুলো ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সারা দেশ থেকে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মোতায়েন করা হচ্ছে। খবর বিবিসি’র।


রোববার (১৭ জানুয়ারি) দেশজুড়ে সশস্ত্র প্রতিবাদ হতে পারে এই আশঙ্কা থেকে দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়।


যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশটির ৫০টি রাজ্যের প্রতিটি ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকরা সশস্ত্র মিছিল বের করতে পারে। এ কারণে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার ন্যাশনাল মল বন্ধ করা হয়েছে। ক্যাপিটলের রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়া হচ্ছে।


পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (১৬ জানুয়ারি) ভার্জিনিয়ার এক ব্যক্তিকে দুটি অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ৫০৯টি অনিবন্ধিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যাপিটল সংলগ্ন পুলিশ চেকপোস্ট অতিক্রমকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়।


এদিকে মেরিল্যান্ড, নিউ মেক্সিকো ও উটাহ রাজ্যের গভর্নররা জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভেইনিয়া, মিশিগান, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিনসহ অনেক রাজ্যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের মোতায়েন করছে। 


টেক্সাস শনিবার থেকে বাইডেনের অভিষেক পর পর্যন্ত রাজ্য ক্যাপিটল বন্ধ রাখছে। টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ‘সহিংস উগ্রপন্থিরা’ ঢুকে যেতে পারে বলে গোয়েন্দারা মনে করছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় যেসব রাজ্যে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবিরে বৈরীতা দেখা গেছে সেগুলোতে সহিংসতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সেগুলোর একটি মিশিগান, এরইমধ্যে কর্তৃপক্ষ রাজ্য ক্যাপিটল ঘিরে ছয় ফুট নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে।


রাজ্যের পুলিশের পরিচালক জো গ্যাস্পার বলেছেন, অন্তত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ এই ভবন ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।


এদিকে বাইডেনের শপথের দিন সকালেই হোয়াইট হাউস ছাড়বেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফলে বাইডনের শপথ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের না থাকার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। ওয়াশিংটন ডিসি ছেড়ে ফ্লোরিডা যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। 

মন্তব্যসমূহ