আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

  পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ের পিআইডি সম্মেলনকক্ষে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে রয়েছেন। দেশে ফেরার পর তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। একই অনুষ্ঠানে পুলিশের সমালোচনা করা সাংবাদিকদের নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। আইজিপির বক্তব্যের পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সোমবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ বলতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাননি। সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টার মতে, আইজিপি নিজেই ...

রোহিঙ্গা পরিবারগুলোতে আশা জাগাচ্ছে অনুসন্ধান বুথ

কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে ওষুধ আনতে যান নূর নাহার। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে নূর নাহারের সঙ্গে ছিল তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রোজিনা। ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় না থাকায় বাইরেই মেয়েকে রেখে যান তিনি। কিন্তু ওষুধ নিয়ে যখন নূর নাহার ফেরেন, তখন দেখেন মেয়ে রোজিনা নেই। তারপর আশপাশের সব জায়গাতেই তিনি মেয়ের খোঁজ করেন। কিন্তু মেয়ের কোনো সন্ধান তিনি পাননি।

মেয়েকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে নূর নাহার বলেন, ‘২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আমার স্বামীকে খুন করেছে। আজ আমি মেয়েকে হারালাম। এখন আমার কেউ রইল না। স্বামী হত্যার জন্য আমি মিয়ানমারের সেনাদের দোষ দিতাম। কিন্তু এখন মেয়েকে হারানোর জন্য কাকে দোষ দেব?’

মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নূর নাহারের মতো অনেক রোহিঙ্গা পরিবারই দাবি করছে শিশু হারানোর। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন এ রকম অসংখ্য রোহিঙ্গা শিশু হারিয়ে যাচ্ছে।

সাহায্যদানকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার আশঙ্কা, অনেক রোহিঙ্গা শিশুই মানবপাচারের শিকার হচ্ছে। ইউনিসেফ ও আইসিআরসি (ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস) বলছে, পরিবার থেকে হারিয়ে যাওয়া শিশুরাই সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে খুঁজতে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের শেষ আশ্রয়স্থল অনুসন্ধান বুথগুলো।

এ রকম একটি বুথে নূর নাহার তাঁর মেয়েকে খুঁজে না পেলেও হারিয়ে যাওয়া দুই সন্তানকে খুঁজে পেয়েছেন শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘সকালের নাস্তার খোঁজে আমরা যখন বাইরে বের হই, এসে দেখি আমাদের দুই সন্তান সাদেক কামাল (৮) ও কামাল হোসেন (৬) ঘরে নেই। পরে আমরা হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের খুঁজে দেয় এমন একটি বুথে যাই। তারা আমাদের সন্তানকে খুঁজে দেয়।’

জাতিসংঘের হিসাবমতে, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। হামলা চালালে, পালিয়ে আসার সময় এবং বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থেকেও শিশুরা হারিয়ে যাচ্ছে।

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া এসব শিশুকে খুঁজে দিতে স্বেচ্ছাসেবকরা অস্থায়ীভাবে বুথ খুলেছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট এ রকম হারিয়ে যাওয়াদের খুঁজে দিতে রিস্টোরিং ফ্যামিলি লিংক (আরএফএল) খুলেছে। থাইংখালী, বালুখালী ও কুতুপালংয়ে তাদের এ রকম বুথ রয়েছে। এসব বুথে এসে কেউ খুঁজে পাচ্ছে আপনজনদের, আবার কেউ কেউ শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছে।

কুতুপালংয়ের যে বুথের সাহায্যে শামসুল আলম তাঁর সন্তানকে খুঁজে পান সেখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন নাজির আহমেদ। তিনি নিজেও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় সন্তান ও পরিবার হারিয়েছেন।

নাজির আহমেদ বলেন, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩৩২টি পরিবারহারা বা হারিয়ে যাওয়া শিশুর সন্ধান আমরা পেয়েছি। এ রকম শিশু পেলে আমরা ঘোষণা করে দিই। এভাবে ঘোষণা দিয়ে আমরা প্রায় ১৮০টি শিশুকে তাদের পারিবারের হাতে তুলে দিয়েছি, বাকিদের ক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

‘প্রতিদিন আমি ২৫ থেকে ৩০টি এ রকম ঘোষণা দিয়ে থাকি।’ সূত্র:আলজাজিরা

মন্তব্যসমূহ