প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে: জামায়াত

  দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।  তিনি বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় ও হতাশা তৈরি হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতি ভঙ্গ হলে দায় এড়াতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের– যারা একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন– আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা ইতোমধ্যে করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ডা. তাহের অভিযোগ করেন, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সর...

মাদ্রাসায় হিন্দু ছাত্রীর অসামান্য সাফল্য

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার এক ছাত্রী প্রশমা শাসমল মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পুরো রাজ্যে ৮ম হয়েছে। ইসলাম ধর্ম শিক্ষায় সে একশর মধ্যে ৯৭ নম্বর পেয়েছে।

কোনো হিন্দু ছাত্রী মাদ্রাসা পরীক্ষায় এর আগে এত ভালো ফল করে নি। সে কারণে, মঙ্গলবার ফল বেরুনোর পর থেকে প্রশমাকে নিয়ে শুধু হাওড়া নয়, পুরো রাজ্যেই চর্চা হচ্ছে।

হাওড়ার খালাতপুর হাই মাদ্রাসার ঐ ছাত্রী প্রশমা শাসমল বলেন, ‘র‍্যাঙ্ক করতে পেরে খুব ভাল তো লাগছেই। পরীক্ষা খুব ভালই হয়েছিল, নম্বরটা আরেকটু বেশী পেলে আরো ভাল লাগত।’


পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা বোর্ডের সিলেবাসে হাই মাদ্রাসা স্তরে অন্য স্কুলের মতোই ইংরেজি, অঙ্ক, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ের সঙ্গে আরবি এবং ইসলামি পরিচয়- এই দুটি বিষয় পড়তে হয়।

বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা হয়।

হাই মাদ্রাসা পর্যায়ের সিলেবাস মাধ্যমিকের মতোই হলেও সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যায়ে ইসলামি ধর্মশিক্ষার ওপরে বাড়তি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে।

একজন হিন্দু হয়েও আরবি আর ইসলাম পরিচয়- এই দুটি বিষয় পড়তে তার কেমন লাগত? এই প্রশ্নে প্রশমা বলেন, ‘ওই দুটো সাবজেক্টকে আলাদাভাবে দেখি নি কখনো। অন্য বিষয় যেমন পড়তাম এগুলোও সেইভাবেই পড়তাম, ভাল লাগত পড়তে। আর আমি ক্লাস সিক্সে এই মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেখেছি যে স্যারেরা এই দুটো বিষয়ে কে কেমন করছে, তার ওপরে খুব নজর দিতেন।’

প্রশমা হিন্দু হয়েও ইসলাম পরিচয় পরীক্ষায় ১০০র মধ্যে ৯৭ নম্বর পেয়েছে।

বড় হয়ে প্রশমা পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করতে চায়।

প্রশমা শাসমল বলেন, ‘বন্ধুদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান কাউকে কখনো আলাদা করে দেখি নি- একসঙ্গে খেয়েছি, আড্ডা মেরেছি। স্যারেদের মধ্যেও হিন্দু যেমন আছেন, মুসলমানও তেমন আছেন। সবাই আমাদের পড়াশোনার দিকে খুব নজর দিতেন ছোট থেকেই।’

প্রশমারই এক সহপাঠী, আরেক হিন্দু ছাত্র মলয় মাঝিও এবছরের মাদ্রাসা পরীক্ষায় ১৭ নম্বর স্থান অধিকার করেছে।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্যসমূহ