চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে চা দিতে দেরি হওয়ায় মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দুই মাসের কন্যা শিশু সাবরিনা জান্নাত মাহিরাকে মাটিতে আছড় দিয়ে হত্যা করেছে বাবা ওসমান গণি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া-মুরাদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আজ দুপুর ২টার দিকে হাটহাজারী মডেল থানার এস, আই হাবিব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মাহিরা হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড চারিয়া মুরাদপুর এলাকার ইব্রাহীম মেম্বার বাড়ির ঘাতক ওসমান গণি ও সুমাইয়া আক্তারের কন্যা।
এদিকে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
জানা যায়, স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। এদিকে ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত পিতাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেশীরা জানান, এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ কল্পনাও করেনি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর সচেতন মহল গুরুত্বারোপ করেছেন।
এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার এসআই হাবিব জানান, উপজেলা মির্জাপুর ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড ইব্রাহিম মেম্বার বাড়িতে আজ সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ভুক্তভোগী মাহিরার পিতা ওসমান গনি তার স্ত্রী সুমাইয়ার কাছে চা চান। তখন তার স্ত্রী স্বামীকে চা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। এসময় মাহিরা তার মায়ের কোলে ছিল। তখন ওসমান গনি মাহিরাকে তার মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে পরপর দুইবার আছাড় দিলে সে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে ওসমান গনিসহ অন্যান্যরা হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী বলেন, শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহোদয় ও অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় শিশু মাহিরার মৃতদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তবে এ ঘটনায় নিহত মাহিরার চাচা রোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ