সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

 সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সবার গর্বিত পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে দীর্ঘদিন কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসক এ দেশের জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। হাজারও প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়েছে জনগণ। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথাও জানান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে —‘ ধর্ম যার...

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজে গুলি, ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব

 




কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠার পর ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারত সরকার। 


শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওই প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি ইরানি গানবোট থেকে ভারতীয় জাহাজে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে জানা গেছে। 


এর আগে ওই দিনই ‘ভাগ্য লক্ষ্মী’ নামক একটি জাহাজের নাবিকরা ইরানি নৌবাহিনীর সাথে তাদের কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন, যেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির আভাস পাওয়া গিয়েছিল। এই ঘটনার পরপরই ভারত সরকার দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এবং এ বিষয়ে তাদের ‘গভীর উদ্বেগ’ ও কড়া প্রতিবাদ জানায়।


নয়াদিল্লি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে ভারতের উদ্দেশ্যে আসা এবং ভারত থেকে ছেড়ে যাওয়া সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়। দিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে  ভারত এই ঘটনার একটি দ্রুত ও সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দাবি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জাহাজে হামলার এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


অন্যদিকে, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হচ্ছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে’ ইরানি নৌযান ও বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। 


এমতাবস্থায় এই প্রণালির দিকে এগিয়ে আসা যেকোনো নৌযানকে ‘শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতাকারী’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের এই কড়া অবস্থানের কারণেই মূলত ভারতীয় জাহাজগুলো আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে একটি ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির পরপরই সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল এবং পথটি পুনরায় বন্ধ হওয়ার আগে অন্তত এক ডজনের বেশি জাহাজ নিরাপদে ওই এলাকা অতিক্রম করেছিল। 


তবে নতুন করে এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে আবারও অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারত এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে আন্তর্জাতিক মহলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।


সূত্র: আল জাজিরা


মন্তব্যসমূহ