আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

  পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ের পিআইডি সম্মেলনকক্ষে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে রয়েছেন। দেশে ফেরার পর তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। একই অনুষ্ঠানে পুলিশের সমালোচনা করা সাংবাদিকদের নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। আইজিপির বক্তব্যের পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সোমবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ বলতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাননি। সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টার মতে, আইজিপি নিজেই ...

ন্যাটো নিয়ে সমর্থন আশা না করতে সুইডেনকে এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি

 




ন্যাটোতে যোগ দেয়া নিয়ে তুরস্কের কাছ থেকে কোনো সহায়তার আশা করা সুইডেনের উচিত নয় বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।


সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে একটি বিক্ষোভে মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন পোড়ানোর কয়েক দিন পর এমন হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।


রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পরে সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দেয়ার আবেদন করেছে। কিন্তু এতে যোগ দিতে হলে ন্যাটোর সদস্য দেশ তুরস্কের অনুমোদন দরকার।


সুইডেনে যে বিক্ষোভে কুরআন পোড়ানো হয়েছিল, তার আগে কুর্দিরা একটি বিক্ষোভ করেছিল। সেখানে এরদোগানের কুশপুত্তলিকা ঝুলানো হয়।


এর প্রতিক্রিয়ায় এরদোয়ান বলেন, ‘সুইডেনের আমাদের কাছ থেকে ন্যাটোর জন্য সমর্থন আশা করা উচিত নয়।’


‘এটা স্পষ্ট যে যারা আমাদের দেশের দূতাবাসের সামনে এই ধরনের অপমানজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা তাদের আবেদনের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে আর কোনো সহায়তা আশা করতে পারে না।’


গত শনিবার অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভের জন্য আগে থেকেই অনুমতি দিয়েছিল সুইডিশ কর্তৃপক্ষ। তবে কুরআন পোড়ানোর কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি।


যে বিক্ষোভে কুরআন পোড়ানো হয়েছিল সেটির নিন্দা করেছেন এরদোগান। কট্টর ডানপন্থী একজন ডেনিশ রাজনীতিবিদ এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরদোগান বলেন, বাক-স্বাধীনতার নামে ইসলাম ধর্মকে অবমাননার বৈধতা দেয়া যায় না। সুইডিশ সরকারও বিক্ষোভের সমালোচনা করেছে।


গত শনিবার সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোবিয়াস বিলস্ট্রম বলেন, ‘সুইডেনে মত-প্রকাশের স্বাধীনতা বেশ বিস্তৃত। তবে এর অর্থ এই নয় যে সুইডিশ সরকার বা আমি, বিক্ষোভে প্রকাশিত মতামতকে সমর্থন করি।’


সোমবার এরদোগানের মন্তব্যের জবাব দেয়ার আগে বিলস্ট্রম বলেছেন, তিনি কোনো মন্তব্য করার আগে তুর্কি নেতা ঠিক কী বলেছেন তা তিনি বুঝতে চান।


তিনি আরো বলেন, ‘ন্যাটো নিয়ে সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও তুরস্কের মধ্যে যে চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে তা মেনে চলবে সুইডেন।’


রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর ফিনল্যান্ডের সাথে সুইডেনও ন্যাটোতে যোগ দেয়ার আবেদন করে। কিন্তু সাম্প্রতিক বিক্ষোভ উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।


ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে মত-প্রকাশের স্বাধীনতা একটি ‘মূল্যবান জিনিস’ এবং এই কাজগুলো অনুচিত হলেও তা ‘স্বাভাবিকভাবে অবৈধ’ ছিল না।


মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্ক বিক্ষোভের অনুমতি দেয়ার সুইডিশ সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।


‘যখন আমরা কিছু বলি, আমরা সততার সাথে বলি। এবং যখন কেউ আমাদের অসম্মান করে, আমরা তাদেরকে তাদের প্রাপ্য জায়গায় রাখি।’


প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার বলেছেন, তিনি সুইডিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তুরস্ক সফর বাতিল করেছেন। কারণ, এসব 'অগ্রণযোগ্য বিক্ষোভের' বিষয়ে সুইডেন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।


সাম্প্রতিক সময়ে সুইডেনের কয়েকজন মন্ত্রী তুরস্ক সফর করেন। তখন আশা জেগেছিল যে সুইডেনের ন্যাটাতে যোগদানের বিষয়ে হয়তো আপত্তি তুলে নেবে তুরস্ক।


যেহেতু তুরস্ক ইতোমধ্যে ন্যটোর সদস্য, সেজন্য তারা অন্য দেশকে যোগদানকে বাধা দিতে পারে। এরইমধ্যে সুইডেনের কাছে বেশ কিছু দাবি করেছে তুরস্ক এর মধ্যে রয়েছে কিছু কুর্দি নাগরিককে তুরস্কের কাছে ফিরিয়ে দেয়া, যাদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছে তুরস্ক।


চলতি মাসের শুরুর দিকে, সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, স্টকহোমে কুর্দি বিক্ষোভকারীরা যারা একটি ল্যাম্পপোস্ট থেকে তুরস্কের রাষ্ট্রপতির কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে দিয়েছিল তারা সুইডেনের ন্যাটোতে যোগ দেয়ার আবেদনকে ভণ্ডুল করে দিতে চায়।


একজন সুইডিশ মন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তবে তুরস্ক বলেছে যে নিন্দা জানানোই যথেষ্ট নয়।

সূত্র : বিবিসি


মন্তব্যসমূহ