প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে: জামায়াত

  দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।  তিনি বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় ও হতাশা তৈরি হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতি ভঙ্গ হলে দায় এড়াতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের– যারা একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন– আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা ইতোমধ্যে করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ডা. তাহের অভিযোগ করেন, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সর...

ইয়েমেনে ভয়াবহ বিপর্যয়, প্রায় দুই কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত

 




পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ইয়েমেনে খাদ্য সাহায্য ব্যাপক মাত্রায় কমিয়ে দেওয়ায় দেশটির এক কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ এখন ক্ষুধার্ত রয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—২০১৫ সালে দেশটির বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আর কখনও এত বেশি সংখ্যক ইয়েমেনি অনাহারের শিকার হয়নি।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে—জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ ও সাহায্য-সংস্থাগুলো অর্থ বা বাজেটের অভাবে কিছুদিন আগে থেকে ইয়েমেনে ত্রাণ ও খাদ্য সাহায্য পাঠানো কমিয়ে দিতে শুরু করে। গত ডিসেম্বরে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছিল তহবিলের অভাবে সংস্থাটি ইয়েমেনের ৮০ লাখ দরিদ্রকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার মাত্রা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। সংস্থাটি ইয়েমেনের জন্য গত মাসেও আরও এক দফা খাদ্য সহায়তার মাত্রা কমিয়ে আনার কথা ঘোষণা করে।


জাতিসংঘের মানবীয় তৎপরতা বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা-ওসিএইচএ জানিয়েছে, ইয়েমেনে ত্রাণ সাহায্যের বাজেট বা তহবিল কমিয়ে দেওয়ার কারণে দেশটির এক লাখ ষাট হাজার ইয়েমেনি চরম খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে, ৫০ লাখ ইয়েমেনি তাদের দৈনিক প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম খাদ্য পাবে এখন থেকে এবং ৮০ লাখ ইয়েমেনি তাদের দৈনিক চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের কম খাদ্য পাবে এখন থেকে।


জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি গত রোববার জানায়—সংস্থাটি অর্থ সাহায্যের অভাবে ও বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রাস্ফীতি ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের কারণে ইয়েমেনে খাদ্য-ত্রাণ আরও ব্যাপক মাত্রায় কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।


ওসিএইচএ জানিয়েছে, জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ ইয়েমেনে অপুষ্টির মারাত্মক শিকার ৫০ হাজারেরও বেশি শিশুর চিকিৎসা সেবা আসন্ন জুলাই মাস থেকে দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। এবং জাতিসংঘ ইয়েমেনের মা ও শিশু বিষয়ক স্বাস্থ্য-সেবা কর্মসূচি বন্ধ করে দেবে। এ সেবার আওতাধীন ছিল ২৫ লাখ ইয়েমেনি শিশু এবং এক লাখ ইয়েমেনি মা।

মন্তব্যসমূহ