পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৬

  পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট পুলিশ লাইন্সের একটি মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে সংগঠিত ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জুমার নামাজের সময়ে পুলিশ সদর দফতরের কাছে এই হামলাটি চালানো হয়। খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ প্রধান (আইজি) জুলফিকার হামিদ ঘটনার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। হামলার ধরণ ও পুলিশের পাল্টা অভিযান প্রথম হামলা: পুরোনো পুলিশ লাইন্সের প্রবেশপথে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয় এক হামলাকারী। এতে বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভবনের একাংশ ধসে পড়ে। দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ও বন্দুকযুদ্ধ: বিস্ফোরণের পরপরই সশস্ত্র জঙ্গিরা স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবন লক্ষ্য করে এগোতে থাকে। সেখানে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দেয়। এরপরই নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সমর্থিত জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। সন্ত্রাসী হতাহত: পুলিশ জানায়, মোট ৭ জন সশস্ত্র জঙ্গি পুলিশ লাইন্সে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে...

ইয়েমেনে ভয়াবহ বিপর্যয়, প্রায় দুই কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত

 




পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ইয়েমেনে খাদ্য সাহায্য ব্যাপক মাত্রায় কমিয়ে দেওয়ায় দেশটির এক কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ এখন ক্ষুধার্ত রয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—২০১৫ সালে দেশটির বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আর কখনও এত বেশি সংখ্যক ইয়েমেনি অনাহারের শিকার হয়নি।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে—জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ ও সাহায্য-সংস্থাগুলো অর্থ বা বাজেটের অভাবে কিছুদিন আগে থেকে ইয়েমেনে ত্রাণ ও খাদ্য সাহায্য পাঠানো কমিয়ে দিতে শুরু করে। গত ডিসেম্বরে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছিল তহবিলের অভাবে সংস্থাটি ইয়েমেনের ৮০ লাখ দরিদ্রকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার মাত্রা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। সংস্থাটি ইয়েমেনের জন্য গত মাসেও আরও এক দফা খাদ্য সহায়তার মাত্রা কমিয়ে আনার কথা ঘোষণা করে।


জাতিসংঘের মানবীয় তৎপরতা বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা-ওসিএইচএ জানিয়েছে, ইয়েমেনে ত্রাণ সাহায্যের বাজেট বা তহবিল কমিয়ে দেওয়ার কারণে দেশটির এক লাখ ষাট হাজার ইয়েমেনি চরম খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে, ৫০ লাখ ইয়েমেনি তাদের দৈনিক প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম খাদ্য পাবে এখন থেকে এবং ৮০ লাখ ইয়েমেনি তাদের দৈনিক চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের কম খাদ্য পাবে এখন থেকে।


জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি গত রোববার জানায়—সংস্থাটি অর্থ সাহায্যের অভাবে ও বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রাস্ফীতি ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের কারণে ইয়েমেনে খাদ্য-ত্রাণ আরও ব্যাপক মাত্রায় কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।


ওসিএইচএ জানিয়েছে, জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ ইয়েমেনে অপুষ্টির মারাত্মক শিকার ৫০ হাজারেরও বেশি শিশুর চিকিৎসা সেবা আসন্ন জুলাই মাস থেকে দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। এবং জাতিসংঘ ইয়েমেনের মা ও শিশু বিষয়ক স্বাস্থ্য-সেবা কর্মসূচি বন্ধ করে দেবে। এ সেবার আওতাধীন ছিল ২৫ লাখ ইয়েমেনি শিশু এবং এক লাখ ইয়েমেনি মা।

মন্তব্যসমূহ