জাসদ কার্যালয়ে জড়ো হওয়া ২৮০-৩০০ জনকে যাচাই করা হচ্ছে: ডিসি হারুন

 রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, কী উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং সেখানে তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে কিছু তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া তারা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না এবং কেন সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। ডিসি হারুন জানান, প্রাথমিকভাবে সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাইয়ের কাজে যুক্ত থাকায় তিনি সঠিক সংখ্যা জানাতে পার...

ইয়েমেনে ভয়াবহ বিপর্যয়, প্রায় দুই কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত

 




পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ইয়েমেনে খাদ্য সাহায্য ব্যাপক মাত্রায় কমিয়ে দেওয়ায় দেশটির এক কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ এখন ক্ষুধার্ত রয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—২০১৫ সালে দেশটির বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আর কখনও এত বেশি সংখ্যক ইয়েমেনি অনাহারের শিকার হয়নি।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে—জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ ও সাহায্য-সংস্থাগুলো অর্থ বা বাজেটের অভাবে কিছুদিন আগে থেকে ইয়েমেনে ত্রাণ ও খাদ্য সাহায্য পাঠানো কমিয়ে দিতে শুরু করে। গত ডিসেম্বরে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছিল তহবিলের অভাবে সংস্থাটি ইয়েমেনের ৮০ লাখ দরিদ্রকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার মাত্রা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। সংস্থাটি ইয়েমেনের জন্য গত মাসেও আরও এক দফা খাদ্য সহায়তার মাত্রা কমিয়ে আনার কথা ঘোষণা করে।


জাতিসংঘের মানবীয় তৎপরতা বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা-ওসিএইচএ জানিয়েছে, ইয়েমেনে ত্রাণ সাহায্যের বাজেট বা তহবিল কমিয়ে দেওয়ার কারণে দেশটির এক লাখ ষাট হাজার ইয়েমেনি চরম খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে, ৫০ লাখ ইয়েমেনি তাদের দৈনিক প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম খাদ্য পাবে এখন থেকে এবং ৮০ লাখ ইয়েমেনি তাদের দৈনিক চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের কম খাদ্য পাবে এখন থেকে।


জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি গত রোববার জানায়—সংস্থাটি অর্থ সাহায্যের অভাবে ও বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রাস্ফীতি ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের কারণে ইয়েমেনে খাদ্য-ত্রাণ আরও ব্যাপক মাত্রায় কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।


ওসিএইচএ জানিয়েছে, জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ ইয়েমেনে অপুষ্টির মারাত্মক শিকার ৫০ হাজারেরও বেশি শিশুর চিকিৎসা সেবা আসন্ন জুলাই মাস থেকে দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। এবং জাতিসংঘ ইয়েমেনের মা ও শিশু বিষয়ক স্বাস্থ্য-সেবা কর্মসূচি বন্ধ করে দেবে। এ সেবার আওতাধীন ছিল ২৫ লাখ ইয়েমেনি শিশু এবং এক লাখ ইয়েমেনি মা।

মন্তব্যসমূহ