আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

  পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ের পিআইডি সম্মেলনকক্ষে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে রয়েছেন। দেশে ফেরার পর তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। একই অনুষ্ঠানে পুলিশের সমালোচনা করা সাংবাদিকদের নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। আইজিপির বক্তব্যের পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সোমবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ বলতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাননি। সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টার মতে, আইজিপি নিজেই ...

ভ্যাকসিন নিরাপদ, অযথা ভয় পাবেন না : মোদি

 




ভারতে টিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক সপ্তাহ আগে প্রয়োগ শুরু হলেও ছোঁয়া যাচ্ছে না প্রত্যাশিত সংখ্যা। নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দেশটির চিকিৎসকদের একটি বড় অংশও। এই পরিস্থিতিতে টিকা নিরাপদ দাবি করে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর আনন্দবাজারের। 


নিজের কেন্দ্র বারাণসীর প্রতিষেধকপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে আজ শনিবার (২২ জানুয়ারি) এক ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন তিনি।


মোদি বলেন, ‘বিজ্ঞানীদের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই প্রতিষেধক বাজারে ছাড়া হয়েছে। তাই প্রতিষেধক নিতে অযথা ভয় পাওয়ার দরকার নেই।’ যদিও আজও ফের প্রতিষেধক নেওয়ার পরে মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তা নিয়ে সরকারিভাবে মুখ খোলেনি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।


গত শনিবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে প্রতিদিন তিন লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা এক দিনও ছোঁয়া যায়নি। শুক্রবার গোটা দেশে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৬৩ জন প্রতিষেধক নিয়েছেন। ফলে গত সাত দিনে প্রতিষেধক নিলেন ১২ লাখ ৭২ হাজার ৯৭ জন মানুষ। এর মধ্যে নতুন করে ২৬৭ জনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এসেছে মৃত্যুর খবরও। 


গত শনিবার গুরুগ্রামে ৫৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তি কোভিশিল্ড প্রতিষেধক নিয়েছিলেন। আজ শনিবার সকালে ঘুমের মধ্যে তিনি মারা যান। মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিষেধকের যোগ আছে কি না, ময়নাতদন্তের আগে তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ স্বাস্থ্যকর্তারা। তবে এই ঘটনার বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা করছেন তারা।


টিকাকরণ নিয়ে নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা কাটানোর চেষ্টাই করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিষেধক নিয়েছেন, বারাণসীর এমন পাঁচ জন চিকিৎসক, মেট্রন, আশা কর্মীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন তিনি। পাঁচ জনই দেশের অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিষেধক নিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 


গতকালই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন অভিযোগ করেছিলেন, ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে দেশের মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। আজ বিরোধীদের কিছুটা পরোক্ষ আক্রমণ শানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষেধক কেন আসছে না, সেই প্রশ্ন তুলে প্রথমে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সরকার প্রথম থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, প্রতিষেধকের ব্যাপারে বিজ্ঞানী তথা বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তারা যা বলবেন, সেই পথেই এগোনো হবে। সেটাই করা হয়েছে।’ 


করোনার প্রতিষেধক নিয়ে ভয় ও ভুল ধারণা ভেঙে বেরিয়ে আসার জন্য আজ নিজের বক্তৃতায় স্বাস্থ্যকর্মীদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাঁচ স্বাস্থ্যকর্মীর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যখন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কোনও প্রতিষেধককে ক্লিনচিট দেন, তখন তা জনমানসে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।’


ভারতে প্রথম দফায় যে দু’টি প্রতিষেধক ব্যবহার হচ্ছে, সেই কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিনের মধ্যে দেশজ কোভ্যাক্সিন পরীক্ষামূলক প্রয়োগের তিনটি ধাপ শেষ হওয়ার আগেই ছাড়পত্র পেয়ে যাওয়ায় সেটির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। বহু চিকিৎসক কোভ্যাক্সিন নিতে আপত্তি জানানোয় গণ-টিকাকরণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। দিল্লির মতো কিছু বিরোধী রাজ্য অভিযোগ তুলেছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের কাছে কোভ্যাক্সিন পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা—সব রাজ্যেই ধাপে ধাপে দু’ধরনের প্রতিষেধক যাবে। কারণ পুরোটাই প্রতিষধকের জোগানের উপর নির্ভর করছে। আজ মোদিও দাবি করেন, ‘কোথায় কোন প্রতিষেধক যাবে, তা নিয়ে রাজনীতি হয়নি।’


কোভ্যাক্সিনের নির্মাতা ভারত বায়োটেকের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ ছিল, তাদের গবেষণা কোনও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়নি। চলতি সপ্তাহেই কোভ্যাক্সিনের গবেষণা সংক্রান্ত একটি প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ ওই জার্নালে কোভ্যাক্সিনের প্রথম দফার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের রিপোর্টের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, ৩৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবককে ওই প্রতিষেধক দেওয়ার পরেও তাদের শরীরে কোনও নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। 


বরং করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের আশা, ল্যানসেটের ওই রিপোর্টের পরে কোভ্যাক্সিন নিয়ে সংশয় অনেকটাই কেটে যাবে।

মন্তব্যসমূহ