জ্বালানি সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সুকৌশলে সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

একটি নির্দিষ্ট চক্র বেশ সুকৌশলে দেশের জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয় রয়েছে এবং তারা নানাভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) জাতীয় সংসদের এলডি হল প্রাঙ্গণে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর জ্বালানি খাত’ অনুষ্ঠানে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কষ্ট ভোগ করছেন এবং সরকার সে বাস্তবতাকে একবারের জন্যও অস্বীকার করেনি। মূলত বিগত সরকারের কাছ থেকে একটি সামগ্রিক ভঙ্গুর ব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে।" তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, "অতীত সরকারের সময়ে গ্যাস, জ্বালানি বা পেট্রোলিয়াম খাতে অত্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগী মহলকে বাড়তি সুবিধা দিতেই নেওয়া হয়েছিল এসব ক্ষতিকর নীতি। যার চূড়ান্ত খেসারত এখন দেশের সাধারণ মানুষ ও বর্তমা...

যুদ্ধে নয়, ঠান্ডা মাথায় ১১ বছর ধরে আফগান নাগরিকদের হত্যা করেছে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী

 




দীর্ঘদিন পর সত্য সামনে এলো। নিরাপরাধ আফগান নাগরিকদের হত্যা করেছে অস্ট্রেলিয়ার সেনা। অস্ট্রেলিয়ার এলিট আর্মির আফগান ফাইলে রয়েছে এমন ৩৯টি ঘটনার তথ্য।


যুদ্ধে নয়, ঠান্ডা মাথায় সাধারণ আফগান এবং যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করেছিল অস্ট্রেলিয়ার এলিট আর্মি। সম্প্রতি সে কথা স্বীকার করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সেনা। দেশটির সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার জন্য তারা অত্যন্ত দুঃখিত। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীরা শাস্তি পাবেন।


২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার সেনা আফগানিস্তানে গিয়েছিল। ন্যাটো বাহিনীর হয়ে আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন লড়াই করেছে তারা। যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সেই ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে সেনাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে। বস্তুত, ঘটনাগুলো কোনোদিন জনসমক্ষে আসতোই না। বছরকয়েক আগে অস্ট্রেলিয়া সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে কিছু ফাইল ফাঁস হয়ে যায়। আফগান ফাইল নামে সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে তার তথ্য। তাতেই দেখা যায়, সাধারণ মানুষের উপর কী ভাবে অত্যাচার চালিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার এলিট ফোর্সের কিছু সেনা। তারপরেই তদন্ত শুরু হয় এবং সত্য প্রকাশ্যে আসে।


অস্ট্রেলিয়া এলিট আর্মির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জেনারেল অ্যাঙ্গুস ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, অন্তত ৩৯ জন সাধারণ আফগানকে হত্যা করেছিল সেনাবাহিনী। নিহতদের কেউ সাধারণ চাষী, কেউ শিক্ষক। যুদ্ধের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কই ছিল না।


অস্ট্রেলিয়া পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল এই ঘটনার তদন্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত লাগাতার এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সেনা। ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, এত বড় নীতিহীনতার অভিযোগ এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সেনার বিরুদ্ধে ওঠেনি। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।


তদন্তে জানা গেছে, দোষী সেনা অফিসাররা একাধিক যুদ্ধবন্দির উপরেও অত্যাচার চালিয়েছে। বন্দিদের উপর অত্যাচার চালিয়ে হত্যা করে ভূয়া রিপোর্ট লেখা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তিদের।


যুদ্ধক্ষেত্রই নয়, এমন বহু জায়গায় সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে এবং হত্যা করা হয়েছে। মোট ২৩টি ঘটনায় ৩৯জনকে এ ভাবে হত্যা করেছে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী।


রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১২ এবং ২০১৩ সালে সব চেয়ে বেশি এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এখনো পর্যন্ত মোট ১৯ জন অফিসারকে এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তাদের বিচার পর্ব শুরু হবে। ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, সকলকেই অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে।


তবে একটি বিষয়ে সেনা এবং পুলিশ কেউই কোনো কথা বলতে চায়নি। কী ভাবে বাইরে এলো আফগান ফাইল? কারা তা সংবাদমাধ্যমের হাতে তুলে দিল? আফগান ফাইল প্রকাশ্যে না এলে কি পুলিশ এবং সেনা ঘটনার তদন্ত করত? বস্তুত, শুধু অস্ট্রেলিয়ার সেনা নয়, আমেরিকাসহ একাধিক দেশের সেনার বিরুদ্ধে এই ধরনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছে। কিন্তু কোনো সেনাই এতদিন পর্যন্ত পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি।

মন্তব্যসমূহ