জাসদ কার্যালয়ে জড়ো হওয়া ২৮০-৩০০ জনকে যাচাই করা হচ্ছে: ডিসি হারুন

 রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, কী উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং সেখানে তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে কিছু তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া তারা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না এবং কেন সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। ডিসি হারুন জানান, প্রাথমিকভাবে সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাইয়ের কাজে যুক্ত থাকায় তিনি সঠিক সংখ্যা জানাতে পার...

সোলেইমানি হত্যার শেষ মুহূর্তের ‘নাটকীয়’ বর্ণনা দিলেন ট্রাম্প



ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনায় শেষ মুহূর্তের নাটকীয় বর্ণনা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন।

সম্প্রতি রিপাবলিকান দাতাদের একটি সভায় ট্রাম্প বলেন, ‘ওই ইরানি জেনারেল যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছিলেন।’

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের একটি রিসোর্টে রিপাবলিকান দাতারা জড়ো হয়েছিলেন। ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা এবং রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন ওই রিপাবলিকান দাতারা।

সেখানে ইরানি জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে আনেন ট্রাম্প। তিনি জানান, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করার কারণেই সোলেইমানিকে হত্যার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এর আগেও সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ট্রাম্প। সে সময় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা সোলেইমানিকে হত্যা করেছি। সব দিক থেকেই তিনি ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী। এই ব্যক্তি অনেক মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছেন। এবার আমরা তাকে হত্যা করলাম।’

জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। ফ্লোরিডার ওই সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘এ ধরনের বাজে কথা আমাদের আর কত শুনতে হবে?’

ওই সভায় কোনো সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে সিএনএন জানিয়েছে, তারা একটি অডিও হাতে পেয়েছিল। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে হোয়াইট হাউস অভিযোগ করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং এর নাগরিকদের জন্য আসন্ন হুমকি হয়ে উঠেছিল ইরান। চারটি দূতাবাসে হামলার আশঙ্কা ছিল।

ফ্লোরিডার পাম বীচের মার এ লাগো ক্লাবে সোলেইমানি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাম্প এমন নাটকীয়ভাবে বর্ণনা করছিলেন যেন সোলেইমানিকে যখন হত্যা করা হয়েছে তখন তিনি হোয়াইট হাউসে বসেই পুরো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘সেনা কর্মকর্তারা তাকে বলেছিলেন, স্যার তারা একসঙ্গে। তাদের হাতে আর সময় আছে দুই মিনিট ১১ সেকেন্ড। স্যার তারা গাড়িতে, তাদের গাড়িটি অস্ত্রে সজ্জিত। তাদের হাতে আর এক মিনিট সময় আছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে কর্মকর্তারা বলেন, আর মাত্র ৩০ সেকেন্ড। ১০, ৯, ৮...। এরপর হঠাৎ বিকট শব্দ হয় এবং সবকিছু শেষ।’

ট্রাম্প এভাবেই ওই ড্রোন হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে তার এই বর্ণনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আইন প্রণেতাই সমালোচনা করেছেন। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা তার কোনো উপদেষ্টাই সেখানে উল্লেখ করেননি যে সোলেইমানি আমেরিকার জন্য হুমকি ছিলেন।

সিএনএন বলছে, ওই অডিওতে সোলেইমানি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি এমন কথার পুণরাবৃত্তি করেননি ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেছেন যে, হামলার আগে সোলেইমানি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে খারাপ কথা বলেছেন। যার কারণে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ