জাসদ কার্যালয়ে জড়ো হওয়া ২৮০-৩০০ জনকে যাচাই করা হচ্ছে: ডিসি হারুন

 রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, কী উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং সেখানে তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে কিছু তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া তারা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না এবং কেন সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। ডিসি হারুন জানান, প্রাথমিকভাবে সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাইয়ের কাজে যুক্ত থাকায় তিনি সঠিক সংখ্যা জানাতে পার...

ইসলামভীতির মধ্যেই ইসলাম গ্রহণ করলেন অধ্যাপক অ্যালিসন

যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আর্থার অ্যালিসন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি খ্রিস্ট ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। মূলত ধর্মের ওপর গবেষণা করতে গিয়েই তিনি ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হন।  সম্প্রতি একটি সাপ্তাহিক দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী বর্ণনা করেছেন।

অধ্যাপক অ্যালিসনের মতে, ইসলাম হচ্ছে সত্যের ধর্ম ও এর সহজাত প্রকৃতি হচ্ছে আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল।


সাপ্তাহিক অ্যারাবিক  ‘আল-আলমুসলিমুন’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার পাঠ্যধারা মনোবিজ্ঞান এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় ‘ব্রিটিশ সোসাইটির মানসিক এবং আধ্যাত্মিক স্টাডিজ’ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আমি ধর্মের সঙ্গে পরিচিত হই। আমি হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য কিছু ধর্ম ও তাদের আকীদা ও বিশ্বাস নিয়ে গবেষণা করেছি। ইসলাম নিয়ে গবেষণা করার পর আমি এটার সঙ্গে অন্য ধর্মের তুলনা করি।’

কোরআনে মেডিকেল সাইন্সের অসীম অবদানের ওপর বক্তব্য দেয়ার জন্য মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত প্রথম ইসলামি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘ওই সম্মেলন চলাকালীন সময়ে আমি ইসলামের সুস্পষ্ট পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারি। তারপর আমি উপলব্ধি করতে পারি ইসলামই হচ্ছে সবচেয়ে সঠিক ধর্ম; যা আমার সহজাত প্রকৃতি ও আচার-আচরণের সঙ্গে মানানসই। আমি আমার হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়কে মিলিয়ে অনুভব করতে পারি যে, কেউ একজন এই পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তা।’

তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়াও, আমি ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি যে, এটা যুক্তি ও বিজ্ঞানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। আমি বিশ্বাস করি, ইসলামই একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ ধর্ম।’

অ্যালিসন বলেন, ‘আমি সত্যের সাক্ষী হিসেবে দুটি বাক্য উচ্চারণ করেছি। যেই মুহূর্তে আমি কালেমা শাহাদা উচ্চারণ করি তখন থেকেই আমার ভিতরে আরাম এবং সন্তুষ্টি মেশানো এক অদ্ভুত অনুভূতির জন্ম দেয়।’

তিনি জানান, কোরআনের ৩৯:৪২ নং আয়াতটি অবশেষে তাকে ইসলামের পথে পরিচালিত করেছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘তিনিই আল্লাহ যিনি তাদের মৃত্যুর সময়ে আত্মাকে নিয়ে নেন এবং ঘুমের সময় আত্মার মৃত্যু হয় না। তিনি এসব আত্মাকে মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত করেছেন। কার্যত, এগুলো চিন্তাশীল মানুষের জন্যে নিদর্শনাবলী।’

এই আয়াতটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে মানুষ প্রমাণ করতে পারে যে, মৃত্যু ও ঘুম উভয়ই একই ঘটনা। দুটি ক্ষেত্রেই আত্মা শরীর থেকে প্রস্থান করে। পার্থক্য হচ্ছে ঘুমের ক্ষেত্রে আত্মা শরীর ফিরে আসে কিন্তু মৃত্যুর ক্ষেত্রে এটা আর ফিরে আসে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আয়াত আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয় যে, ‘আত্মার গ্রহণের’ মানে হল ঘুম ও মৃত্যু। আমার মানসিক গবেষণায় এই সত্যটি প্রমাণিত হয়েছে; যা তিনটি প্রধান ডোমেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত।’

নাইজ ডটকম অবলম্বনে মো. রাহুল আমীন

মন্তব্যসমূহ