হিজবুল্লাহর ভয়াবহ রকেট হামলা, প্রতিরোধে ব্যর্থ ইসরাইল

লেবানন থেকে ফিলিস্তিনির হাইফা এবং গালিলি অঞ্চলের দিকে অন্তত ৩৫টি রকেট ছোঁড়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। সেনা সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে এই রকেট হামলা চালানো হয়, এবং এসব রকেট হাইফা এবং পশ্চিম গালিলির দখলকৃত অঞ্চলে আঘাত হানে। জায়নিস্ট গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো রকেট বিধ্বস্ত করতে সক্ষম হয়নি। হাইফা শহরের বিভিন্ন এলাকায় রকেট হামলার সতর্কবার্তা শোনার খবর পাওয়া গেছে। আল-মায়াদিন টিভি চ্যানেল জানায়, হাইফার উত্তরে আল-কিরিওত এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। জায়নিস্ট গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দখলকৃত পশ্চিম গালিলির ইয়ারা শহরে এক ভবন হিজবুল্লাহর মিসাইল হামলায় পুড়ে যায়। অপরদিকে, আভিভিম, ইয়রাউনসহ ওপরের গালিলির বেশ কয়েকটি শহরে রকেট হামলার সতর্কবার্তা বাজানো হয়। সূত্র: মেহের নিউজ

আনান কমিশনকে নির্যাতনের করুণ বর্ণনা শোনাল রোহিঙ্গারা

মায়ানমার সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুটি শিবির পরিদর্শন করেছে কফি আনান কমিশনের প্রতিনিধিদল। এ সময় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের দুটি রোহিঙ্গা শিবিরে যায় তারা।

রবিবার তিন সদস্যের এই দলটি রোহিঙ্গাদের মুখ থেকেই শোনেন নির্যাতনের করুণ বর্ণনা।

প্রতিনিধিদলে রয়েছেন- মায়ানমারের নাগরিক উইন ম্রা, আই লুইন ও লেবানিজ নাগরিক ঘাশান সালামে।


প্রতিনিধিদলটি রবিবার সকালে কক্সবাজারে এসে পৌঁছায়, এরপর বেলা ১১টায় প্রথমে উখিয়া উপজেলার বালুখালীর জঙ্গলে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গাশিবিরে যায়। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন এবং ১৯ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন ইউএনএইচসিআর (জাতিসংঘ শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা), আইওএম (আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে আনান কমিশনের সদস্যরা রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি শুনেছেন। সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা ঢাকায় ফিরে যাবেন।

আইওএম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উখিয়ার শিবিরের রোহিঙ্গা গৃহবধূ নুর বেগম আনান কমিশনের সদস্যদের বলেছেন, গত ডিসেম্বরে রাখাইন রাজ্যের শিলখালী গ্রামে আগুন ধরিয়ে দেয় মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এতে তার বাড়িসহ ২০-২৫টি বাড়ি পুড়ে যায়। সেনাদের গুলিতে নিহত হন অনেকে। তার আত্মীয়দের অনেকে এখনো নিখোঁজ। প্রাণ বাঁচাতে তিনি অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে এই শিবিরে আশ্রয় নেন।

রাখাইন রাজ্যের মরিচ্যা বিল এলাকার বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ মোসলেহ উদ্দিন আনান বলেন, ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে সেনা ও পুলিশ তাদের গ্রামটিও ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। ঘরের জিনিসপত্র লুট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। মেয়েদের ধর্ষণ করে। গুলিতে আহত হন তিনি। পরে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়েন।

রাখাইন রাজ্যের অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেন নাইছাপ্রু গ্রামের নুর জাহান, নুর আয়েসা, শিলখালী গ্রামের ফারেজা বেগম, ইয়াসমিন, বুচিডং গ্রামের রশিদ আহমদ, খেয়ারিপাড়ার আবুল কালামসহ আরো কয়েকজন।

এরপর উখিয়া থেকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বেলা দুইটায় টেকনাফ উপজেলার লেদা রোহিঙ্গাশিবিরে (বস্তি নামে পরিচিত) যান। শিবিরের বিভিন্ন ঝুপড়িঘর (রোহিঙ্গারা থাকে) ঘুরে দেখেন তারা। পরে লেদা রোহিঙ্গা বস্তির আইওএমের কার্যালয়ে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নির্যাতনের শিকার সাতজন রোহিঙ্গা নারী ও সাতজন রোহিঙ্গা পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনের সদস্যরা।

শিবিরের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল হোসেন আনান কমিশনের সদস্যদের বলেন, তার বাড়ি রাখাইন রাজ্যের জামবনিয়া গ্রামে। নির্যাতনের মুখে পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে গত ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে লেদা রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার চাচাতো ভাই মো. হাশিমকে হত্যা করার পর ভাতিজা অলি আহমদকে ধরে নিয়ে যান মায়ানমারের সেনাসদস্যরা। তাদের গ্রামে ৪০০ ঘরবাড়ি ছিল। এর মধ্যে ২০০-এর বেশি ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গ্রামের অনেকে প্রাণে বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তাদের সঙ্গে তিনিও পরিবার নিয়ে চলে আসেন। হত্যা, নির্যাতন বন্ধ হলে আবার নিজ গ্রামে তিনি ফিরে যেতে চান।

লেদা রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দুদু মিয়া বলেন, মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে না। রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দিলে বাংলাদেশে অবস্থান করা ও আশ্রয় নেওয়া সবাই মায়ানমারে ফিরে যাবে বলে জানান রোহিঙ্গারা।আরটিএনএন

মন্তব্যসমূহ