সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

 সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সবার গর্বিত পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে দীর্ঘদিন কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসক এ দেশের জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। হাজারও প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়েছে জনগণ। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথাও জানান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে —‘ ধর্ম যার...

বিয়ের রাতেই ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেলো বরের

 




বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নববধূকে ঘরে তোলার আনন্দ তখনো কাটেনি। বাড়িতে চলছিল বৌভাতের প্রস্তুতি, ঝুলছিল বিয়ের আলোকসজ্জা। এর মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেলো আহমেদ আনাস বাপ্পি (২২) নামে এক নববিবাহিত যুবকের। বিয়ের রাতেই স্বামীকে হারিয়ে বিধবা হলেন ১৮ বছর বয়সী নববধূ সাইরা খাতুন।


বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।


স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাসের সঙ্গে ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজনের কথা ছিল।


এ উপলক্ষে রাতে বাড়িতে প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার কাজের তদারকি করছিলেন আনাস। একপর্যায়ে প্যান্ডেলের একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গেলে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি।


পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


আনাসের আকস্মিক মৃত্যুতে মুহূর্তেই বিয়ের আনন্দের বাড়ি পরিণত হয় শোকের মাতমে। স্বামীকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন নববধূ সাইরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।


আনাসের বাবা ইউসুফ আলী বলেন, বিকেলে কত সুন্দর করে বউ নিয়ে ঘরে ফিরল। কত আনন্দ, কত হাসি-খুশি! শুক্রবার সবাইকে ডেকে ধুমধাম করে খাওয়াবো, সব আয়োজন শেষ করছিলাম আমরা। কিন্তু আমার ছেলেটা নিজেই আর খেয়ে গেল না।


হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিলন হোসেন বলেন, শুক্রবার বৌভাতের প্রস্তুতি চলছিল। এর আগেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেল।


দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ