জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) সকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।
‘মানবলবল সংকটে ঝুঁকিতে জাদুঘর, বাদ পড়েছে বৈচিত্র্য’
নাহিদ ইসলাম বলেন, "জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে পরিচালনার জন্য একটি স্বতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসিত আইনি কাঠামো দেওয়া জরুরি। এই বিশাল স্মারক রক্ষায় অন্তত ২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজন, অথচ মাত্র ১২ থেকে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে এটি চালানো হচ্ছে। ফলে স্পর্শকাতর এই জাদুঘরটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "বিগত ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনার নির্মম ফ্যাসিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই গণভবন। শুধু দেশীয় ফ্যাসিবাদই নয়, বিগত হাসিনা সরকারের আমলে যেসব বৈদেশিক শক্তি এই শাসন দীর্ঘায়িত করতে প্রভাব রেখেছিল, তাদের ভূমিকার চিত্রও এখানে সঠিকভাবে ফুটে ওঠা উচিত।"
ইতিহাস দলীয়করণের অভিযোগ
জাদুঘরের বর্তমান উপস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, "বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালেই এটি পুরোপুরি খোলার উপযোগী ছিল। তা সত্ত্বেও বর্তমান বিএনপি সরকার এটি চালু করতে অযথা পাঁচ মাস সময় নিল। পরিদর্শনে এসে আমরা কিছু অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখতে পেয়েছি। সীমান্ত হত্যা ও ফেলানীর কিছু ঐতিহাসিক স্মারক এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, আর বিএনপির বিগত ১৬ বছরের নির্যাতনের বিষয়গুলোকে বাড়তি প্রাধান্য দিয়ে দলীয় বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে।"
তিনি বলেন, "এখানে কোনো একক দলের প্রচার না চালিয়ে জাতীয় সংগ্রাম ও ত্যাগের বিষয়গুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত ছিল। পাশাপাশি ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর স্কুল-কলেজের যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাদের অনেক স্মারক ও নিদর্শনই বাদ পড়েছে। এটাকে আরও শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করার দিকে সরকারের নজর দেওয়া দরকার।"
মন্তব্যসমূহ