দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল বহিরাগত ও অছাত্রদের দিয়ে হামলা চালাচ্ছে অভিযোগ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, “ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা করেছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়; বরং ছাত্র সন্ত্রাসী ও টোকাই। ছাত্রদল যাদের দিয়ে কমিটি দিয়েছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে।”
আজ বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মিছিল শেষে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়াতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কড়া হুঁশিয়ারি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান
শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, “এসব ‘আদুভাই’ এবং নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা টোকাইদের দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজে তাদের সন্ত্রাসী হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছেন।”
ছাত্রদলের এই কর্মকাণ্ডকে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে ছাত্রশিবির ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে এসব সন্ত্রাসীদের লাগাম টেনে ধরবে। আমাদের সহনশীলতা কোনো দুর্বলতা নয়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসাব নেওয়া হবে।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হামলাকারীদের হাতে চাপাতি ও রিভলভার থাকা সত্ত্বেও পাশে অবস্থান করে পুলিশ আবার ‘নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায়’ পরিণত হচ্ছে।
জামায়াত ও সাবেক শিবির নেতাদের বক্তব্য
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিএনপির সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে ভেবেছিলাম। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, তারা ক্যাম্পাস দখল করে পুনরায় চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে মেতে উঠতে চায়। মেধা ও আদর্শের লড়াইয়ে হেরে গিয়েই তারা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।”
শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পুলিশের আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “গতকাল পুলিশের পাহারায় আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। শেখ হাসিনা তাঁর অনুগত পুলিশ কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে পারেননি, বর্তমান প্রশাসনকেও অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদও সমাবেশে বক্তব্য দেন। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের প্রধান লক্ষ্য টেন্ডারবাজি ও সিট দখল করা, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আর হতে দেবে না। ছাত্রদলকে না সামলালে ছাত্রলীগ যেভাবে আওয়ামী লীগের পতন ঘটিয়েছে, ছাত্রদলও কম সময়ে একই পরিণতি ডেকে আনবে।”
সমাবেশে উপস্থিতি
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই বিশাল ছাত্র গণজমায়াতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ