থাইল্যান্ডে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি বন্দুক হামলায় শিক্ষকসহ অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। তাণ্ডব চালানোর পর হামলাকারী শিক্ষার্থী নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়।
আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় ননথাবুরি প্রদেশের বাং কুরাই জেলার একটি নামকরা স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হামলার সময় স্কুলটিতে প্রাত্যহিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল।
৩য় তলা থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ও আত্মহত্য
ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারী ওই স্কুলের নবম গ্রেডের শিক্ষার্থী ছিল এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর। তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা দেচরাপি আরও জানান, শিক্ষার্থীটি স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষে অবস্থান নিয়ে নিচ ও আশপাশে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়তে থাকে। হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালানোর পর হামলাকারী নিজেই নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় অনেকে, কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা
পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন ক্ষোভ থেকে ওই কিশোর এমন নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রাদেশিক পুলিশ।
থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের আশঙ্কাজনক সহজলভ্যতা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার হারে শীর্ষে রয়েছে থাইল্যান্ড। দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে সাধারণ নাগরিকদের কাছে প্রায় ১ কোটি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ৭ জন থাই নাগরিকের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক—যা দেশটির জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মন্তব্যসমূহ