গণহত্যায় জড়িত হয়ে ক্ষমা না চাইলে রাজনীতিতে ঠাঁই নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যারা জড়িত এবং এসব অপকর্মের জন্য যাদের কোনো অনুশোচনা নেই, দেশের মানুষ তাঁদের রাজনীতি বরদাশত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনির্মিত ফ্ল্যাট উদ্বোধন ও পরবর্তীতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র বরদাশত নয় অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশে বসে একটি নির্দিষ্ট চক্রান্তকারী গোষ্ঠী বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশের জনগণ সচেতন এবং তাদের এই ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতায় কোনো কাজ হবে না বলে তিনি জোর দাবি করেন। অপরাধীদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, "যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সরাসরি দায়ী, অথচ এখনও পর্যন্ত এসব অপরাধের জন্য বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নয় এবং দেশের মানুষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি, তাদের কোনো ধরনের রাজনীতি বাংলাদেশের মাটিতে ঠাঁই পাবে না।" অনুষ্ঠানে স...

ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট: ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ২ বছর পূর্তি, স্বৈরাচারের পতনে সূচনা হয়েছিল নতুন অধ্যায়ের



আজ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট। ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের এই স্মরণীয় দিনে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মুখে অবসান ঘটে টানা ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের। ছাত্র-জনতার অব্যাহত আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। দীর্ঘ ৩৬ দিনের টানা আন্দোলন এবং হাজারো বীর শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচনা হয়েছিল এক নতুন অধ্যায়ের।


২০২৪ সালের ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা সময়ের পরিক্রমায় গণমানুষের এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।


থমথমে ঢাকা থেকে রাজপথে মানুষের ঢল

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল এক থমথমে উত্তেজনা। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সব ধরনের বাধা ও কারফিউর তোয়াক্কা না করে রাজপথে নামতে শুরু করেন লাখ লাখ মানুষ। ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে সাধারণ মানুষের ঢল নামে, যা দুপুরের মধ্যেই বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।


সেদিন রাজপথে কেবল শিক্ষার্থী বা রাজনৈতিক কর্মীরাই ছিলেন না; মিছিলের প্রথম সারিতে ছিলেন সন্তানের নিরাপত্তার শঙ্কায় দিন কাটানো মায়েরা, ঘরে ফেরাতে না পেরে রাজপথে নেমে আসা বাবারা, শহীদদের স্বজন এবং সর্বস্তরের খেটে খাওয়া মানুষ। পুরো ঢাকা শহর রূপ নিয়েছিল এক অদম্য গণসংগ্রামের ময়দানে।


দেশত্যাগ ও বিকেলে সেনাপ্রধানের আনুষ্ঠানিক ভাষণ

বিকেল নামার আগেই চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন ত্যাগ করে সামরিক বিমানে দেশ ছাড়েন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে তাঁর দেশত্যাগের খবর প্রচারিত হতে থাকলেও চারদিকে ছিল প্রচণ্ড উৎকণ্ঠা ও বিভ্রান্তি।


সব অনিশ্চয়তা দূর করতে সবার দৃষ্টি ছিল সেনা সদরের দিকে। অবশেষে বেলা ৩টায় জাতির উদ্দেশে এক বিশেষ ভাষণে তৎকালীন সেনাপ্রধান শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।


গণভবনে বিজয়ের বাঁধভাঙা উল্লাস

সেনাপ্রধানের ঘোষণার পরপরই মুহূর্তে পাল্টে যায় পুরো দেশের দৃশ্যপট। ঢাকা শহরসহ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সমগ্র দেশে নেমে আসে বিজয়ের বাঁধভাঙা উল্লাস।


রাজপথে নেমে আসা লাখ লাখ ছাত্র-জনতা বিজয় মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে গণভবন ও সংসদ ভবন এলাকায়। হাজার হাজার মানুষের সমাগমে সেখানে তৈরি হয় ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্বৈরাচারমুক্ত একটি নতুন মানবিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশায় সেদিন উল্লাসে ফেটে পড়েছিল গোটা দেশ।

মন্তব্যসমূহ