ইরানের হামলায় নিহত মার্কিন সেনাদের জন্য ‘খুবই মর্মাহত’ ট্রাম্প: সিএনএন

 ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সামরিকভাবে ইরানকে ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১৯ জুলাই) ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা খুবই মর্মাহত। তবে তারা ছিলেন অসাধারণ মানুষ, প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তারা এমন একটি লক্ষ্য নিয়েই লড়াই করছিলেন, যাতে ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে।' বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখার পর ওয়াশিংটনে ফেরার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, উত্তর ইরাকে শনিবার ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় বিস্ফোরণে এক মার্কিন সেনা নিহত হন। এছাড়া শুক্রবার জর্ডানে ইরানের হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা প্রাণ হারান। এসব ঘটনার পর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে। নিহত সেনাদের প্রসঙ্গের পরই ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ...

ইরান যুদ্ধে ১৬ সেনা হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

 


ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আরও দুজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এতে এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৬ জন সেনা নিহত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী শনিবার (১৯ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এপির।


এই মার্কিন সেনাদের মৃত্যু এক জটিল বাস্তবতাকে তুলে ধরে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত কোনো সংঘাতও মার্কিন সেনাদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করেছে। এজন্য মার্কিন সেনাদের সরাসরি স্থল অভিযান প্রয়োজন হয়নি।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর লড়াই তীব্র হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে এ যুদ্ধ প্রয়োজন। ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় জর্ডানে ঘটে যাওয়া প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে তিনি শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেননি। পরিবর্তে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের জারি করা একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে হোয়াইট হাউস।


যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই প্রথম প্রাণহানি ঘটে


চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়। এই সেনারা আইওয়া-ভিত্তিক একটি সরবরাহ ও রসদ ইউনিটের অংশ ছিল। তারা একটি শিপিং কন্টেইনার-সদৃশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই, এমন একটি ভবনে কাজ করছিল।


সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে গত ১ মার্চ ইরানের হামলায় আহত হওয়ার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর আরও একজন সেনা মারা যান।


পরবর্তীতে মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ইরাকে বিধ্বস্ত হলে ছয়জন সেনা সদস্য নিহত হন।

মন্তব্যসমূহ