সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

 সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সবার গর্বিত পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে দীর্ঘদিন কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসক এ দেশের জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। হাজারও প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়েছে জনগণ। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথাও জানান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে —‘ ধর্ম যার...

নিখোঁজের পর ভুট্টা খেতে মিলল শিশুর লাশ, গণপিটুনিতে নিহত ২

 




মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৮ বছর বয়সি এক শিশুর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। উত্তেজিত জনতার গণধোলাইয়ে প্রাণ গেছে দুজনের। 


বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল (কান্দুরপার ব্রিজ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেন এবং এলাকায় মাইকিং করে খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।


অবশেষে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ দৃশ্য মুহূর্তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে, সৃষ্টি হয় তীব্র ক্ষোভের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির পরনে থাকা স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।


ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে স্থানীয়রা বাবা ও ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে গণধোলাই দেয়। এতে অটোচালক পান্নু মিয়া (৩৫) ও তার ভাই ফজলু (২৮) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুলকে (২০) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


সদর থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন জানান, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গণধোলাইয়ের ঘটনাতেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


তিনি আরও বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ