ইরানের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, পর্যালোচনা করছে তেহরান

  ইরানকে উদ্দেশ্যে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে সেই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যৎ আলোচনায় তারা আর কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কয়েকটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তেহরান সেগুলো খতিয়ে দেখছে তবে এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।’ বিবৃতিতে জানানো হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তেহরানকে প্রস্তাবগুলো দিয়েছেন। ইরান তাদের অবস্থান কঠোর থাকবে বলে জানিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ইরানের আলোচনাকারী দল নমনীয়তা দেখাবে না এবং ইরানের স্বার্থ রক্ষায় সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে। সূত্র: আল–জাজিরা

চুক্তি না হলে আমাদের আবার বোমা ফেলতে হবে: ট্রাম্প

 




ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আগামী বুধবারের মধ্যে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে সমঝোতা না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না এবং ইরানের ওপর আবারও ভয়াবহ বোমা হামলা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।


রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেন।


ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সম্ভবত এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমাদের অবরোধ কঠোরভাবে বজায় থাকবে। যদি বুধবারের মধ্যে কোনো সম্মানজনক সমাধান না আসে, তবে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমাবর্ষণ শুরু করতে হবে।’


বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হওয়ার কথা। এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনায় যুক্ত রয়েছে।


এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হলেও তা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। পরে হোয়াইট হাউস থেকে চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করা হলেও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই আশায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স। 

মন্তব্যসমূহ