ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কৌশলগত হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি যতদিন স্থায়ী থাকবে, ততদিন ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ থাকবে।
আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন।
আরাঘচি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।
তবে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আজ থেকে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির কথা নাকি ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত বলে জানিয়েছেন। এরপর থেকে বিনিয়োগকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন। এর মধ্যেই আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জ্বালানি তেলের দাম বড় মাত্রায় কমেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
নর্থ সি ক্রুডের (অপরিশোধিত তেলের) দাম পাঁচ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৪২ ডলারে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (জ্বালানি তেল) দামও পাঁচ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, তেহরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, পুরো অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান চায়। খবর বার্তা সংস্থা আনাদোলুর।
আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরামের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খাতিবজাদেহ বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত’ সমস্ত সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ইরানের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নিচ্ছি না। সংঘাতের এই চক্রের এখানেই চিরতরে অবসান হওয়া উচিত। আর এই উদ্দেশ্য অর্জনই পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার লক্ষ্য।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, এই জলপথটি ঐতিহাসিকভাবেই উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত হলেও দীর্ঘদিন ধরেই এর মধ্য দিয়ে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড বিশ্ব বাণিজ্য ও বৃহত্তর অর্থনীতিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।
খাতিবজাদেহ বলেন, ইরান প্রণালিটি খোলা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে নিরাপত্তা, নিরাপদ যাতায়াত এবং পরিবেশগত উদ্বেগের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে।
খাতিবজাদেহ আরও বলেন, সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরমপন্থি অবস্থান’ থেকে সরে আসা প্রয়োজন। তাহলে হরমুজ প্রণালি যাতে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি স্থিতিশীল পথ হিসেবে থাকে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির গত বুধবার থেকে তেহরানে অবস্থান করছেন এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জেনারেল মুনির ইরানের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান। এরপর পাকিস্তান গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানকে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি করে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সামনাসামনি আলোচনার ব্যবস্থা করে।
বিশ্বনেতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত তুরস্কে আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরামে অংশগ্রহণ করছেন। এ ফোরামে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ