ইরানের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, পর্যালোচনা করছে তেহরান

  ইরানকে উদ্দেশ্যে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে সেই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যৎ আলোচনায় তারা আর কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কয়েকটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তেহরান সেগুলো খতিয়ে দেখছে তবে এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।’ বিবৃতিতে জানানো হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তেহরানকে প্রস্তাবগুলো দিয়েছেন। ইরান তাদের অবস্থান কঠোর থাকবে বলে জানিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ইরানের আলোচনাকারী দল নমনীয়তা দেখাবে না এবং ইরানের স্বার্থ রক্ষায় সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে। সূত্র: আল–জাজিরা

প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে ধরা পুলিশ সদস্য

 




নীলফামারীর ডোমারে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন আতিকুর রহমান নামে এক পুলিশ সদস্য। ওই গৃহবধূ দুই সন্তানের জননী। 


শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে ডোমার সদর ইউনিয়নের হুজুরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডোমার সদর ইউনিয়নের হুজুরপাড়া গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন আতিকুর। পরে ওই পরিবারের লোকজন তাকে আটক করে রাখে। একইদিন রাত ১১টার দিকে মুচলেকা নিয়ে ডোমার থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।


আতিকুর রহমান কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ হরিরামপুর এলাকার হোসেন আলীর ছেলে। এর আগে তিনি ডোমার থানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি নীলফামারী পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল পদে কর্মরত।


জানা গেছে, ডোমার থানায় থাকা অবস্থায় আতিকুরের সঙ্গে ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সুবাদে ওই বাড়িতে যাতায়াতের সময় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হতো।


চার মাস আগে পারিবারিক এক সমস্যা নিয়ে আতিকুরের সঙ্গে নীলফামারী আদালতে আইনি পরামর্শ নিতে যান ওই গৃহবধূ। বিষয়টি জানাজানি হলে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং এরপর থেকে ওই নারী বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন।


ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, শুক্রবার জুমার পর সমঝোতার মাধ্যমে তাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় আতিকুর সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে শ্বশুরবাড়িতে না পাঠিয়ে নিজের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে একটি ঘরে আটকে রাখেন।


ওই গৃহবধূ বলেন, আমার শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে আতিকুরের যোগাযোগ থাকায় তার যাতায়াত ছিল। সেখান থেকেই আমাদের মধ্যে কথা বলা শুরু হয়। আমি আমার সংসারের সমস্যা তার সঙ্গে শেয়ার করতাম। পরে আইনি পরামর্শ নিতে তার সঙ্গে আদালতে গেলে বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। এখন আমি বাবার বাড়িতে আছি। আমার সংসার ভেঙে গেলে এর দায় আতিকুরকেই নিতে হবে।


গৃহবধূর শ্বশুর জানান, আতিকুর তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বাড়িতে যাতায়াত করতেন। চার মাস আগে আমার ছেলের বউকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও আতিকুর নিজ থেকেই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।


অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বলেন, মেয়েটির শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় আমি তাদের খোঁজ নিতে যেতাম। মেয়েটির দাম্পত্য সমস্যা থাকায় আমি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা আমাকে আটকে রাখে।


সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে আটকে রেখে মুচলেকা নিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।


নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আরআই) মো. বদিউজ্জামান জানান, আতিকুর রহমান শুক্রবার রোল কলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি শনিবার সকালে যোগদান করেন। আমরা শুনেছি, তাকে ডোমার থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে।

মন্তব্যসমূহ