প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে: জামায়াত

  দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।  তিনি বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় ও হতাশা তৈরি হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতি ভঙ্গ হলে দায় এড়াতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের– যারা একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন– আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা ইতোমধ্যে করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ডা. তাহের অভিযোগ করেন, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সর...

মিয়ানমারে ঝড় ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪, নিখোঁজ ৮৯

 




ঘূর্ণিঝড় ইয়াগির প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া বন্যা ও ভূমিধসে মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি গণমাধ্যম। আজ রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের গ্লোবাল নিউ লাইট গণমাধ্যম জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যার কারণে ৭৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছে আরও ৮৯ জন। খবর এএফপির।


গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় ইয়াগি আঘাত হানার পর সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, লাওস ও থাইল্যান্ডে সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত মোট ৩৫০ জন মারা গেছে।


নিখোঁজ লোকজনকে উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা এবং বন্যায় ৬৫ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে ও পাঁচটি বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের সরকারি গণমাধ্যমটি। এর আগে শুক্রবার জান্তা সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৩ জনে এবং দুই লাখ ৩৫ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।


বন্যার পানিতে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ডুবে গেছে। নিচু এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজধানী নেইপেডুসহ আশপাশের এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে।



খবর পাওয়া গেছে, পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। বন্যায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে রাস্তা-ঘাট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা ভেঙে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত দেশটিতে সাম্প্রতিক বন্যা দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। সরকারি বাহিনী ও বিরোধী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাতে এ পর্যন্ত ২৭ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।


বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এতটাই বেশি যে এক বিরল ঘটনা হিসেবে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক সাহায্যের অনুরোধ জানিয়েছেন। এর আগে দেশটিতে বিদেশ থেকে কোনো মানবিক সাহায্যপণ্য প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না।

মন্তব্যসমূহ