তারেক রহমানের সফরের প্রস্তুতির খবর নিয়ে দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাহার করল ভারত

  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের 'সম্ভাব্য' ভারত সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তা আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভারতের রাষ্ট্রপতির সচিবালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর মহড়ার কারণে আগামীকাল শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে 'চেঞ্জ অব গার্ড' অনুষ্ঠান হবে না। কিন্তু এর পরপরই কোনো কারণ না দেখিয়ে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেয় রাষ্ট্রপতি ভবন। এটি সফরের সময়সূচি বদলের ইঙ্গিত, নাকি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়াগত কোনো সমস্যা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ঘিরে টানাপড়েন এবং তারেক রহমানের সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে এই কাণ্ড নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারেক রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে সফর নিয়ে আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছে।

লন্ডনে আগুন: 'শিশু কোলে নারী জানালার ধারে চিৎকার করছিল'

লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড বলছে, পশ্চিম লন্ডনে লাটিমার রোডের যে বহুতল ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, তাতে 'বহু হতাহত' হয়েছে।
শহরের নর্থ কেনসিংটনে অবস্থিত 'গ্রেনফেল টাওয়ার' নামের ওই আবাসিক ভবনটিতে ব্রিটেনের স্থানীয় সময় রাত সোয়া একটার দিকে আগুন লাগে।
প্রায় দুইশো'র মতো দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ভবনে বহু মানুষ আটকা পড়ে আছে।
লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স জানাচ্ছে, ভবন থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গ্রেনফেল টাওয়ারের সাত তলার বাসিন্দা পল মুনাকর কোনোরকমে ভবন থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন।
"আমরা যখন সিড়ি দিয়ে নামছিলাম তখন দেখলাম দমকলকর্মীরা ওপরে উঠছে। তারা আগুনের মধ্যে ঢুকে যেভাবে পারছে মানুষকে বের করে আনার চেষ্টা করছে"- বিবিসিকে বলেন পল মুনাকর।
তিনি জানান, ভবনে যে আগুন লেগেছে সেটা কিন্তু তিনি ফায়ার অ্যালার্মের মাধ্যমে বুঝেননি। রাস্তায় থাকা মানুষেরা চিৎকার করে বলছিল 'ঝাঁপ দিও না, ঝাঁপ দিও না' তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে ভবনে আগুন লেগেছে।
"আগুন থেকে বাঁচার জন্য কত মানুষ নিচে ঝাঁপ দিয়েছে আমি জানি না । কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এটাই যে ভবনের ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি", বলছিলেন মি. মুনাকর।
অন্যদিকে জর্ডি মার্টিন নামে আরেকজন জানান আগুন দেখার পর প্রথমে তিনি দৌড়ে ভবনটির কাছে গিয়ে বাসিন্দাদের বেরিয়ে আসতে বলেন।
"আমি একজনকে পড়ে যেতে দেখেছি, শিশু কোলে এক নারীকে দেখেছি জানালার ধারে চিৎকার করছিল....।"
"আমি সবাইকে বাইরে বের হতে বললেও ভবনে আটকে থাকা লোকজন চিৎকার করে বলছিলেন তাদের বাইরে বের হবার উপায় নেই। কারণ করিডোরের ভেতরটা পুরোটা ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল সে সময়"।
অন্যদিকে বিবিসির সংবাদদাতা অ্যান্ডি মুর বলেন, "ভবন থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখছি। আমরা বড় বিস্ফোরণের শব্দও শুনেছি। কাঁচ ভাঙার শব্দও পেয়েছি।"
জর্জ ক্লার্ক নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসি রেডিও ফাইভকে জানিয়েছেন, "আমার সারা গায়ে ছাই লেগে গেছে। আগুনটা কত ভয়াবহ হতে পারে চিন্তা করুন"।
"আমি প্রায় ১০০ মিটার দূরে এবং পুরোপুরি ছাইয়ে ঢেকে গেছি"।
"এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আমি দেখেছি ভবনের উপরের দিকে কেউ টর্চ জ্বালাচ্ছিল। তারা অবশ্যই বের হতে পারেনি। হয়তো তারা বেঁচে নেই," বলছিলেন মি. ক্লার্ক।
বিবিসির সাইমন লেডারমেন জানান, "ভবনটি যেভাবে জ্বলছে, তা কয়েক মাইল দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে"।
ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে জানাচ্ছেন তিনি।
লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার ডেন ডেলি বলছেন, "পরিস্থিতি ভয়াবহ। এমন জটিল পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা"।
"অনেক বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি" - বলেন তিনি।
আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজনকে চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তাদেরও ভবনটিতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এটাকে "অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা" বলে বর্ণনা করেছেন।
আগুনের এই ঘটনার পর লন্ডন পাতাল রেলের হ্যামারস্মিথ এবং সিটি অ্যান্ড সার্কেল লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তারা ছাদের ওপর থেকে আলো নাড়ানো দেখেছেন। ভবনে থাকা লোকজন ছাদের ওপর থেকে টর্চের আলো দিয়ে সাহায্যও চেয়েছেন। আর্তনাদও তারা শুনতে পেয়েছেন।
ভবনটিতে আগুন লাগার তিন ঘণ্টা পর পুলিশ বলছে, ভবনের ভেতর থেকে তখনো লোকজনকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিবিসি

মন্তব্যসমূহ