নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা

  নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুরে চারজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার শিকার সবাই একই পরিবারের সদস্য।  সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে নিয়ামতপুর থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। সকাল ৮টার দিকে ওই গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)। নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়া মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পারভেজ বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের লাশ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছ...

৫৪ বছর ধরে ভারতে আটকে আছেন চীনের নাগরিক

১৯৬৩ সালের জানুয়ারি মাস। তখন কিছুদিন আগেই চীন-ভারত যুদ্ধ শেষ হয়েছে। দু'দেশের মধ্যে উত্তেজনা তখনো চলছে।
সে সময় চীন-ভারত সীমান্তে সার্ভেয়ারের কাজ করছিলেন ওয়াং চি। উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত অঞ্চলে চীনের সেনাবাহিনীর জন্য রাস্তা তৈরি করা।
কাজের সময় ওয়াং চি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় অংশে ঢুকে পড়েন। কিন্তু আর ফিরে যেতে পারেননি। গত ৫৪ বছর ধরে ভারতে আটকে আছেন মি: চি।
বিবিসি'র সাথে এক সাক্ষাৎকারে মি: চি বলছিলেন, সীমান্ত অঞ্চলে কাজ করার সময় তিনি বুঝতেই পারেননি যে ভারতীয় অংশে ঢুকে পড়েছেন। এরপর তিনি পথ হারিয়ে ফেলেন।
নিজের গন্তব্য খুঁজতে দীর্ঘপথ হেঁটে ক্লান্ত এবং ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন মি: চি। এক পর্যায়ে রেড ক্রসের একটি গাড়ি দেখা মেলে। মি: চি তাদের কাছে সাহায্য চান। তখন রেডক্রসের কর্মকর্তারা তাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন মি: চি অবৈধভাবে সীমানা পেরিয়ে ভারতে এসেছেন।
তারপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সাত বছর কারাগারে থাকার পর ১৯৬৯ সালে আদালত তাকে মুক্তি দেয়। কারাগার থেকে মুক্তি পাবার পর পুলিশ মি: চিকে ভারতের মধ্য প্রদেশের তিরোদি গ্রামে নিয়ে যায়।
সে থেকে ওয়াং চি সেখানেই থাকছেন। কারণ সে গ্রাম ছেড়ে যেতে তাকে অনুমতি দেয়া হয়নি।
১৯৭৫ সালে তিনি সে গ্রামের এক নারী সুশিলাকে বিয়ে করেন।
" একজন ভিনদেশীকে বিয়ে করার কারণে আমার মা-বাবা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। প্রথম-প্রথম তার ভাষা বুঝতে অসুবিধা হয়েছিল। কয়েকমাস তাকে সহ্য করতে হয়েছে। তারপর আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি," মুচকি হেসে বলছিলেন সুশিলা।
প্রায় ৪০ বছর পর ২০০২ সালে ওয়াং চি তার মায়ের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। এর আগে চিঠিপত্র আদান-হয়েছিল। ২০০৬ সালে মি: চি'র মা তাকে শেষবার দেখতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু সেটি আর সম্ভব হয়নি। কারণ চীনে ফিরে যাবার জন্য তার কাছে কোন কাগজ-পত্র ছিলনা। ২০০৬ সালে তার মা মারা যান।
২০০৯ সালে ওয়াং চি'র ভাইপো পর্যটক হিসেবে ভারতে এসে তার সাথে দেখা করেন। পাসপোর্ট জোগাড় করার জন্য তিনি তার চাচাকে কাগজ-পত্র দিয়েছেন।
তারপর ২০১৩ সালে ভারতে চীনের দূতাবাসের তাকে পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করে।
তবে মি: চি চীনে যেতে পারবেন কিনা সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। পারলেও তিনি আবার ভারতে ফিরে আসতে পারবেন কিনা সেটিও নিশ্চিত নয়।
মি: চি বলছিলেন, " আমি কোথায় যাব? আমার পরিবার এখানে থাকে। আমার সন্তান এবং নাতি-নাতনিরা এখানে থাকে।"
চীনে গিয়ে ৫৪ বছর পর ভাই-বোনদের সাথে দেখা করার প্রবল ইচ্ছা আছে তার। কিন্তু সেখানে যাবার পর আবার ভারতে ফিরে আসতে পারবেন কিনা সে ভাবনাও আছে মি: চি'র মনে। বিবিসি

মন্তব্যসমূহ