মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

  ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ এবং মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, বরং জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়।  তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাননি। এ কারণে স্বাধীনতা যুদ্ধের অসংখ্য ঘটনা, ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা এখনও যথাযথভাবে ইতিহাসে স্থান পায়নি, সেগুলো এখনও সাধারণ মানুষের কাছে অজানা রয়ে গেছে এবং সেই ইতিহাসকে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে ও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। আজ শুক্রবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস-এর ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর এমন ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে যে, কেবল কয়েকটি ভাষণের মাধ্যমেই দ...

হাইকোর্টে প্রতিবেদন: কিছু পুলিশ সাঁওতালপল্লিতে আগুন দিয়েছে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের কিছু সদস্য সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহীদুল্লাহ ৬৫ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেন।

আজ মঙ্গলবার এনটিভি অনলাইনকে বিষয়টি জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি জানান, মূল ৬৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের সঙ্গে এক হাজার ছয় পৃষ্ঠার নথি দেওয়া হয়।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের  বেঞ্চে প্রতিবেদনটি আজ সকালে উপস্থাপন করা হয়। পরে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিবেদনে কতিপয় পুলিশ সদস্য এ আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দূর থেকে ভিডিও ক্লিপ দেখে পুলিশদের শনাক্ত করা গেলেও তাঁদের নাম জানা যায়নি। ওই পুলিশদের শনাক্তের বিষয়ে ৭ তারিখ আদালত কী আদেশ দেন, সেটাই দেখার বিষয়।

আদালতের একটি সূত্রের কাছ থেকে প্রতিবেদনের কিছু অংশ জানা গেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, টেলিভিশনে প্রদর্শিত ভিডিও ক্লিপ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, কিছু পুলিশ সদস্য এবং দুজন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোয় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। আরো কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন যাঁরা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেননি। তবে তাঁরা আগুন নেভানোর চেষ্টাও করেননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চামগাড়ি বিল ও কুয়ারমারা এলাকায় আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে। সাহেবগঞ্জ ও হরিণমারী এলাকায় আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার পরে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এবং হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখে বসতি স্থাপনকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে আগুন লাগানোর আগেই নির্মিত স্থাপনা থেকে আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ গজ দূরে মাদরপুর ও জয়পুর গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল মর্মে সাক্ষীদের বক্তব্যে সুস্পষ্ট হয়েছে। ফলে এরূপ প্রেক্ষাপটে সাক্ষীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত স্থানীয় অপরাধীদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারেননি। তা ছাড়া কোনো কোনো সাক্ষী তাঁদের জবানবন্দিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেও তাঁদের উপস্থিতির বিষয়টি বর্ণিত প্রেক্ষাপটে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পোশাক পরিহিত থাকায় সাঁওতালদের স্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের গুলির আওয়াজে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে সাঁওতালরা তাদের স্থাপনা ছেড়ে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে গ্রুপটি খামারের ভেতরে প্রবেশ করেছিল, তারাই চামগাড়ী বিল নামক এলাকায় সাঁওতালদের নির্মিত স্থাপনার কাছে গেছে। পেনড্রাইভে প্রদত্ত ভিডিও ক্লিপসূমহ পর্যবেক্ষণে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতাল ও অন্য সাক্ষীদের পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, চামগাড়ী বিল এলাকায় নির্মিত স্থাপনা থেকে সাঁওতালরা চলে যাওয়ার পর আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও ডিবির পোশাক পরিহিত সদস্য এবং সাধারণ পোশাকধারী দুজন ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। ওই গ্রুপটির মধ্য হতে পুলিশ লেখা পোশাকধারী দুজন, ডিবি লেখা পোশাকধারী একজন ও সাধারণ পোশাকধারী দুজন (লাল ও সাদা রঙের শার্ট পরিহিত) ব্যক্তিকে সক্রিয়ভাবে চামগাড়ী বিল এলাকায় সাঁওতালদের স্থাপনায় আগুন লাগাতে দেখা গেছে। অপরদিকে কুয়ামারা, সাহেবগঞ্জ ও হরিণমারী এলাকায় সাঁওতালদের নির্মিত স্থাপনায় কতিপয় স্থানীয় জনতা আগুন লাগিয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লিতে অগ্নিসংযোগে পুলিশ জড়িত কি না, সে বিষয়ে তদন্তের জন্য গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।


ওই নির্দেশ মোতাবেক গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম ঘটনার তদন্ত করে আদালতে এই প্রতিবেদন দাখিল করেন। এনটিভি অনলাইন

মন্তব্যসমূহ