বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আরেকটি রোমাঞ্চকর ও ইতিহাস গড়ার রূপকথা লেখার অপেক্ষায় ছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব। কোটি কোটি ভক্ত মুখিয়ে ছিলেন লিওনেল মেসির হাতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি দেখার জন্য। তবে প্রকৃতির সমীকরণ আর বিশ্ব ফুটবলের নতুন পরাশক্তিদের উত্থান শেষ পর্যন্ত তা হতে দিল না। মেসির শেষ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে পানি ঢেলে ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালদের জয়ধ্বনি দেখলো বিশ্ব। টানটান উত্তেজনার ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন।
প্রথমার্ধে স্পেনের দাপট, ছন্নছাড়া আর্জেন্টিনা
ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় স্প্যানিশ মিডফিল্ডার পেদ্রি ও তাদের ক্ষিপ্র গতির ফরোয়ার্ডরা। বিপরীতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে শুরু থেকেই কিছুটা ছন্নছাড়া ও খেই হারিয়ে ফেলতে দেখা যায়। স্পেন একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও জালের দেখা পাচ্ছিল না। ফলে কোনো দলই গোল করতে না পারায় গোলশূন্য সমতা নিয়েই প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় দু’দল।
অতিরিক্ত সময়ে টোরেস ম্যাজিক ও এনজোর লাল কার্ড
দ্বিতীয় পর্বেও খেলার চিত্র বদলায়নি। স্পেন তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধার বজায় রাখে, অন্যদিকে বিবর্ণ ফুটবল খেলে আলবিসেলেস্তেরা। মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্স চেরা যেসব পাসের জন্য ফুটবলপ্রেমীরা লিওনেল মেসির দিকে তাকিয়ে থাকেন, পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকেও তেমন কোনো ‘মেসি ম্যাজিক’ দেখাতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচের অতিরিক্ত নির্ধারিত সময়ের ৯৩ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। উইংয়ে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে। ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। তবু নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গোল ঠেকিয়ে রেখে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
যখন গ্যালারিতে উপস্থিত ভক্ত ও কোটি কোটি দর্শক ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকে গড়াচ্ছে বলে প্রহর গুনছিলেন, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অতিরিক্ত সময়ে নিকো উইলিয়ামসের দুর্দান্ত এক পাস থেকে প্রতিপক্ষের জালে নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন ফেরান টোরেস। ওই এক গোলেই স্তব্ধ হয়ে যায় আলবিসেলেস্তে শিবির, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম ভর্তি স্প্যানিশ সমর্থকেরা।
ফেরান টোরেস ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’
শেষ পর্যন্ত টোরেসের করা সেই এক গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের বিশ্বজয়। আর সেই সাথে ভেস্তে যায় মেসিবাহিনীর টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় তোলার স্বপ্ন। ফাইনালে জয়সূচক মহামূল্যবান গোলটি করে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হন ফেরান টোরেস।
মন্তব্যসমূহ