যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অনিশ্চয়তা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে ঘিরে মিশ্র সংকেত এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। বিশ্ববাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। পরে কিছুটা কমলেও সকালে প্রতি ব্যারেল দাম দাঁড়ায় ৯৪.৬৯ ডলার, যা শুক্রবারের (১৭ এপ্রিল) ৯০.৪০ ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। খবর আল জাজিরার।  এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে, যা দেশটির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এর আগে সপ্তাহান্তে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএসটিও) জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয় এবং একটি কনটেইনার জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে। শুক্রবার ইরান প্রণালিটি ‘সম্পূর্ণ খোলা’ ঘোষণা করলেও ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে অবস...

মার্কিন অবরোধ না ওঠা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: আইআরজিসি

 




ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। বাহিনীটির দাবি, ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং ইরানি নৌযান ও বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ সরায়নি।


আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, কয়েকটি নৌযান এই প্রণালি পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে’ ইরানি নৌযান ও বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। তাই এই প্রণালির দিকে এগিয়ে আসা যেকোনো নৌযানকে ‘শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতাকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে তারা ওয়াশিংটনকে ব্ল্যাকমেল করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন’ না হওয়া পর্যন্ত নৌ অবরোধ ‘পুরোপুরি বহাল’ থাকবে।


তবে এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংগতি রেখে এবং ‘পূর্বঘোষিত সমন্বিত পথে’ সব বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি খোলা’ রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, একটি অভিন্ন কাঠামোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনা শুরু হতে পারে না।


এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করে দেখছে।


সূত্র: আল–জাজিরা

মন্তব্যসমূহ