জাসদ কার্যালয়ে জড়ো হওয়া ২৮০-৩০০ জনকে যাচাই করা হচ্ছে: ডিসি হারুন

 রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, কী উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং সেখানে তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে কিছু তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া তারা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না এবং কেন সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। ডিসি হারুন জানান, প্রাথমিকভাবে সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাইয়ের কাজে যুক্ত থাকায় তিনি সঠিক সংখ্যা জানাতে পার...

১২ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারে গেলেন নাজিব রাজাক

 




মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে অবশেষে ১২ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারেই যেতে হলো। উচ্চ আদালতে আপিল খারিজ হওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ২০২০ সালে তাঁকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। খবর বিবিসির।


৬৯ বছর বয়সি রাজাকের অপরাধ তিনি মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) কোটি কোটি মার্কিন ডলারের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এ অপরাধে ২০২০ সালের ২৮ জুলাই তাঁকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে প্রায় ৫ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানাও করা হয়েছিল।


উচ্চ আদালত রাজাকের সাজা বিলম্বিত করার অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০২০ সালে ওই দণ্ড ঘোষণার পর উচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন ১০ বছর দাপটের সঙ্গে মালয়েশিয়া চালানো নাজিব রাজাক। আপিলের সময় তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। শুরু থেকেই রাজাক তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।


ওয়ানএমডিবি দুর্নীতির মামলার সাত অভিযোগের সবগুলোতে নাজিব রাজাককে দোষী সাব্যস্ত করেন মালয়েশিয়ার আদালত। প্রতিটি অভিযোগের জন্য আলাদাভাবে সাজা ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে একটি অভিযোগে নাজিবকে ১২ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া দায়িত্বে থেকে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের তিনটি অভিযোগের প্রতিটিতে তাঁকে ১০ বছর করে এবং মুদ্রা পাচারের তিনটি অভিযোগের প্রতিটিতে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়। রায়ে বলা হয়, নাজিবের সব কটি ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১২ বছর জেল খাটতে হবে তাঁকে।


২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ওয়ানএমডিবি নামে এ সার্বভৌম ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নাজিব নিজেই। বিদেশে অংশীদারির ব্যবসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ত্বরান্বিত করতেই এটা প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু দুর্নীতি এর তহবিলকে একদম শেষ করে ফেলে। ওয়ানএমডিবি থেকে সাড়ে ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে আরও বেশ কয়েকটি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে নাজিবের বিরুদ্ধে। আইনজীবীদের অভিযোগ, নাজিব ওই রাষ্ট্রীয় তহবিলের ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে নেন।

মন্তব্যসমূহ