আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

  পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ের পিআইডি সম্মেলনকক্ষে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে রয়েছেন। দেশে ফেরার পর তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। একই অনুষ্ঠানে পুলিশের সমালোচনা করা সাংবাদিকদের নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। আইজিপির বক্তব্যের পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সোমবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ বলতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাননি। সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টার মতে, আইজিপি নিজেই ...

তুরস্কে সেনাকর্মকর্তাসহ ৩৩৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

 




তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুাত্থানের দায়ে সেনা কর্মকর্তাসহ ৩৩৭ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার তুরস্কের একটি আদালত এ রায় ঘোষণা করে। 


২০১৬ সালে ১৫ জুলাই তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে রাজধানী আঙ্কারার কাছের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে উৎখাতের চেষ্টা শুরু হয়। 


এ ঘটনায় বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীর কমান্ডারসহ ৫০০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। খবর-বিবিসি। 


এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য আঙ্কারা যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসিত ধর্মগুরু ও ব্যবসায়ী ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করে আসছে।


ওই সময় যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ট্যাংক নামিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দখলের চেষ্টা করা হয়। সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় আড়াই শতাধিক মানুষ। 


দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্তত ২৫ জন এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের পাইলট রয়েছেন। বিমানবাহিনীর প্রাক্তন কমান্ডার আকিন ওজতার্কসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ও পার্লামেন্ট ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে বোমা হামলা চালানোর নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদেরকে ক্রমবর্ধমান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মানে হচ্ছে এই দণ্ডপ্রাপ্তরা প্যারোল সুবিধা পাবেন না।


২০১৬ সালের ১৫ জুলাই রাতে কোনো বড় কারণ ছাড়াই অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায় সামরিক বাহিনীর একাংশ। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনী রাজপথে অবস্থান নেয়। অভ্যুত্থানকারী সেনারা বিমান হামলা চালালেও তা রুখে দেয় নিরস্ত্র জনতা। 

 

দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দল জাস্টিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) ইস্তানবুলের দফতরেও হানা দেন বিদ্রোহী সেনা সদস্যরা।

 

অভ্যুত্থানের শুরুতেই সেনাপ্রধান জেনারেল হুলিসিয়াকে বন্দি করা হয়। ইস্তানবুল সেনানিবাসের সৈনিক ও কর্মকর্তারা অভ্যুত্থান সমর্থন করেনি। 

 

নৌবাহিনীপ্রধান এবং বিশেষ বাহিনীর অধিনায়ক অভ্যুত্থান প্রয়াসের বিরোধিতা করেন। বিভিন্ন শহর ও সেনানিবাসে অভ্যুত্থানকারীরা সরকারের অনুগত সহকর্মী ও জনতার প্রতিরোধের মুখে একের পর এক আত্মসমর্পণ করতে থাকে। 

 

এতদসত্ত্বেও এরদোগান জনগণকে রাস্তায় থাকতে বলেন। চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত জনগণ রাস্তায় অবস্থান করে। অভ্যুত্থান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার কঠিন ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।

 

তুর্কি শান্তি পরিষদ নামের বিদ্রোহী সেনাদের সংগঠনের এই অভ্যুত্থানে অন্তত ২৫১ জন নিহত এবং ২২০০ জনের বেশি আহত হন। আঙ্কারায় তুরস্কের পার্লামেন্ট ভবন ও প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। গুলির শব্দ আঙ্কারা ও ইস্তানবুলের প্রধান বিমানবন্দর থেকেও শোনা যায়। 

 

অভ্যুত্থানের পর গণগ্রেফতার শুরু করে সরকার। আটক করা হয় ৪০ হাজার মানুষকে। এর মধ্যে ১০ হাজার সেনা। দুই হাজার ৭৪৫ জন বিচারককেও আটক করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার স্টাফকে বরখাস্ত করা হয়। ২১ হাজার শিক্ষকের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। সব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ লোকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় তুর্কি সরকার।

মন্তব্যসমূহ