প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে: জামায়াত

  দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।  তিনি বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় ও হতাশা তৈরি হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতি ভঙ্গ হলে দায় এড়াতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের– যারা একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন– আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা ইতোমধ্যে করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ডা. তাহের অভিযোগ করেন, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সর...

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম উপস্থাপক হাসান মিনহাজের টকশো বন্ধ

 



যুক্তরাষ্ট্রে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তৈরি করা তুমুল জনপ্রিয় নেটফ্লিক্সের টকশো 'প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট' বন্ধ করে দেয়ায় অনুষ্ঠানটির দর্শকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।


অনুষ্ঠানটির হোস্ট হাসান দক্ষিণ এশীয় মুসলিম তরুণ মিনহাজ গত মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন– সিরিজটি আর চালানো হবে না। খবর বিবিসির।


প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট ছিল যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান মুসলমানের উপস্থাপনায় প্রথম সাপ্তাহিক টকশো। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশীয় অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল।


মনে করা হচ্ছে, আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে এ অনুষ্ঠান ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে- এমন ধারণা থেকেই এটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।


নেটফ্লিক্স যেন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, এ জন্য এক আবেদনে এখন পর্যন্ত প্রায় সাত হাজারেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।


২০১৯ সালে টাইম ম্যাগাজিন যখন হাসান মিনহাজকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, সেই সময় প্রখ্যাত কমেডিয়ান ট্রেভর নোয়াহ প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টে মুসলিম উপস্থাপক হাসান মিনহাজের 'চাবুকের মতো তীক্ষ্ণ ভাষ্য– ক্যারিশমা ও অকপটতার জন্য প্রশংসা করেছিলেন।


সেই সময় নোয়াহ লিখেছিলেন– ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম ও অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার পর থেকে হাসানের কণ্ঠস্বর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।


২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ৪০টি পর্ব হয়েছে হাসান মিনহাজের সিরিজের। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থাপক দিনের খবরগুলো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতেন।


হাসান মিনহাজের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি 'আন্তরিকতার সঙ্গে গভীরভাবে আধুনিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পটভূমি বিশ্লেষণ করে।


একসময় 'দ্য ডেইলি শো'র সঙ্গে কাজ করা হাসান মিনহাজের অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক স্থূলতা, ভারতের নির্বাচন, চীনের সেন্সরশিপ, গাঁজা বৈধতা দেয়া, সুদানে বিক্ষোভ, মানসিক স্বাস্থ্য ও সমকালীন হিপহপসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।


সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে নেটফ্লিক্সে এ ধরনের অনুষ্ঠান খুব বেশি নেই।


রিভিউ ওয়েবসাইট ইন্ডিওয়াইয়ারের স্টিভ গ্রিন লিখেছেন– প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট যে রকম তাৎক্ষণিকভাবে সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করত, নেটফ্লিক্সে সেই চাহিদা পূরণ করার মতো আর কোনো অনুষ্ঠান নেই।


অনুষ্ঠানটি বাতিল হওয়ার পর টুইটারে হতাশা প্রকাশ করে কমেন্ট করেছেন দর্শকরা। গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক বিষয়গুলো যেভাবে তুলে ধরা হতো ওই অনুষ্ঠানে, সেই বিষয়টি দর্শকদের আকর্ষণ করেছিল।


সিনেমা পরিচালক কুনাল কোহলি লিখেছেন– নভেম্বরে মার্কিন নির্বাচনের সময় আপনি না থাকলে কীভাবে হবে? এই শো এবং সেখানে আপনার করা মন্তব্য ভালো লেগেছে।


সংস্কৃতি সমালোচক সোরায়া নাদিয়া ম্যাকডোনাল্ড লিখেছেন– খুবই প্রয়োজনীয় এবং বিশেষ একটি কাজ করছিল হাসান। দক্ষিণ এশিয়ানদের ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে কর্তৃত্ব নিয়ে স্পষ্ট কথা বলতেন তিনি।

মন্তব্যসমূহ