আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

  পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ের পিআইডি সম্মেলনকক্ষে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে রয়েছেন। দেশে ফেরার পর তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। একই অনুষ্ঠানে পুলিশের সমালোচনা করা সাংবাদিকদের নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। আইজিপির বক্তব্যের পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সোমবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ বলতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাননি। সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টার মতে, আইজিপি নিজেই ...

ভারতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে বিজেপি সাংসদ

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে এমন আশঙ্কায় যখন ভারত সরকার দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ালেন বিজেপির তরুণ নেতা বরুণ গান্ধী।

৩৭ বছর বয়সী উত্তরপ্রদেশের এই সংসদ সদস্য মঙ্গলবার রোহিঙ্গাদের ওপর একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছেন। প্রতিবেদনে তিনি মিয়ানমার থেকে ভারতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

নবভারত টাইমসে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বরুণ গান্ধী বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিতাড়িত করা উচিত নয়, তাঁদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে।

তবে বরুণ গান্ধীর এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হংসরাজ অহির। তিনি বলেছেন, ‘এই ধরনের মন্তব্য জাতীয় স্বার্থের বিরোধী।’

এর আগেই অবশ্য ভারত সরকার দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে কিছু ‘রোহিঙ্গা জঙ্গি’ পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে কাজ করে। এ ব্যাপারে কোর্টকে গোপনে তথ্য দেবে সরকার।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতন, সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ভারতে পালিয়ে এসেছে। ভারত সরকার এই রোহিঙ্গাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে।  অবশ্য দুই রোহিঙ্গা আদালতে পিটিশন করেছেন। তাঁরা বলছেন, তাঁদের সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপ্রিয়। কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ভারত সরকার বলছে, গোয়েন্দাদের বিশ্বাস ‘রোহিঙ্গা জঙ্গি’ কমান্ডাররা ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে।

বরুণ গান্ধী তাঁর প্রতিবেদনে একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্র ব্যবহার করেছেন। তিনি লিখেছেন, রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পলিসির কারণে ভুক্তভোগী।

ভারত বলছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ১৯৫১ সালের শরণার্থী চুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় ভারত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য নয়। কিন্তু বরুণ গান্ধী বলছেন, ভারত ‘সার্ক টেররিজম প্রটোকল’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। যেখানে আর্টিকেল-১৭ তে বলা হয়েছে-কোনো দেশ এমন কাউকে তার দেশ থেকে বিতাড়িত করতে পারবে না, যাঁরা তাঁদের বিশ্বাসের কারণে নির্যাতনের শিকার হতে পারে।

মন্তব্যসমূহ