তারেক রহমানের সফরের প্রস্তুতির খবর নিয়ে দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাহার করল ভারত

  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের 'সম্ভাব্য' ভারত সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তা আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভারতের রাষ্ট্রপতির সচিবালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর মহড়ার কারণে আগামীকাল শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে 'চেঞ্জ অব গার্ড' অনুষ্ঠান হবে না। কিন্তু এর পরপরই কোনো কারণ না দেখিয়ে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেয় রাষ্ট্রপতি ভবন। এটি সফরের সময়সূচি বদলের ইঙ্গিত, নাকি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়াগত কোনো সমস্যা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ঘিরে টানাপড়েন এবং তারেক রহমানের সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে এই কাণ্ড নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারেক রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে সফর নিয়ে আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছে।

৮ হাজার ইহুদি সেটেলারকে নিয়ে পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব

অবৈধ ৮০০০ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীকে (সেটেলার) নিয়ে পশ্চিমতীরের সালফিট শহরে হানা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।  তাদের প্রত্যক্ষ মদদে সেখানে গিয়ে ইহুদি রীতির ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করেছেন ওই সেটেলাররা।  গড়ছেন অবৈধ অস্থায়ী বসতি। মুসলিমদের পবিত্র ঐতিহাসিক স্থানগুলো দখরে নিয়েছেন ওই সেটেলাররা। মুসলিমদের বিরুদ্ধে উসকানি তৈরি করতেই তারা এমনটা করেছে বলে খবর দিয়েছে কাডস্ প্রেস নামের এক সংবাদমাধ্যম। ওই সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মিডল ইস্ট মনিটর খবরটি জানিয়েছে।

দিকে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল সেভেন-এর এক খবরে বলা হয়েছে, ওই ৮০০০ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীর মধ্যে ফ্রান্স থেকে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে এসেছেন ২৫০ জন। তারা পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি গড়তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে চ্যানেল সেভেন। ওই সংবাদমাধ্যম খবর দিয়েছে, এরইমধ্যে পশ্চিমতীরের তিনটি ঐতিহাসিক স্থানে অস্থায়ী আবাস গড়েছে তারা। তাবু তৈরি এবং পায়খানা নির্মাণ করে তারা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছেন।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনে অভিবাসন এবং বসতি স্থাপন অবৈধ। ২০ বছরের বিরতি শেষে সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিমতীরে নতুন বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ। পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতি কমিয়ে আনতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন আলোচনা চলাকালেই বসতি সম্প্রসারণের এ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয় ইসরায়েল। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন অবৈধ বসতি অনুমোদনের নিন্দা জানিয়ে আবারও ইসরায়েলকে শান্তির পথে বাধা হিসেবে শনাক্ত করেছে জাতিসংঘ। বসতি স্থাপনের পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১শরও বেশি বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে স্থাপিত প্রায় ১৪০টি বসতিতে ৬ লাখেরও ইসরায়েলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও তা মানতে নারাজ ইসরায়েল।

তবে গত বছর ডিসেম্বরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে এক প্রস্তাব পাশ হয়। ওবামা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় পাস হওয়া ওই প্রস্তাবে ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল যে বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে, তার কোনও আইনি ভিত্তি নাই।’বাংলা ট্রিবিউন

মন্তব্যসমূহ